আকাশে মাঝপথে ছারপোকার কামড়ে অতিষ্ঠ যাত্রীরা, আর সেই ছারপোকা তাড়াতেই শেষ পর্যন্ত বাতিল করতে হলো আস্ত একটি ফ্লাইট! অস্ট্রেলিয়ার নামীদামি বিমান সংস্থা কোয়ান্টাস এয়ারওয়েজের রোম থেকে পার্থগামী একটি যাত্রীবাহী বিমানে দেখা দিয়েছে এই অনভিপ্রেত ও নজিরবিহীন ছারপোকার তাণ্ডব। ইতালির রোম থেকে অস্ট্রেলিয়াগামী নির্ধারিত ফ্লাইটটি শনিবার বাতিল করে বিমানটিকে সম্পূর্ণ ‘ডিপ ক্লিন’ বা জীবাণুমুক্ত করার জন্য পাঠাতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার শুরু গত শুক্রবার। অস্ট্রেলিয়ার পার্থ থেকে ইতালির রোমগামী প্রায় ১৭ ঘণ্টার এক দীর্ঘ যাত্রায় বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমানে বেশ কয়েকজন যাত্রী ছারপোকার কামড়ের অভিযোগ তোলেন। বিমানে থাকা অ্যান্টিহিস্টামিন বা অ্যালার্জির ওষুধ যাত্রীদের দেয়া হলেও এক পর্যায়ে সেই ওষুধের মজুদই শেষ হয়ে যায়। একের পর এক যাত্রীর চুলকানি ও সুরসুরি অভিযোগের মুখে শেষ পর্যন্ত রোমে পৌঁছানোর পরই ড্রিমলাইনারটিকে গ্রাউন্ডেড করা হয়।
কোয়ান্টাস এয়ারওয়েজের এক মুখপাত্র বিবিসির কাছে দুঃখ প্রকাশ করে জানান, ইকোনমি ক্লাসের কয়েকটি আসনে ছারপোকার উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর প্রকৌশলী ও রক্ষণাবেক্ষণকারী দল বিমানটিকে গভীরভাবে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করার কাজ শুরু করে। ফলে শনিবারের রোম-পার্থ যাত্রা বাতিল করতে হয়। তবে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রভাবিত সব যাত্রীকে আবাসন সুবিধা প্রদান করা হয়েছে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিকল্প ফ্লাইটে তাদের গন্তব্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিমানে বা পরিবহনে ছারপোকার কারণে ভ্রমণ বাতিলের ঘটনা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও ইংল্যান্ডে ট্রেনের কেবিনে ড্রাইভাররা ছারপোকা পাওয়ার পর বেশ কয়েকটি সাউথইস্টার্ন ট্রেন সার্ভিস বাতিল করা হয়েছিল। ২০১৭ সালে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ভ্যাঙ্কুভার থেকে লন্ডনগামী এক রাতের ফ্লাইটে পুরো পরিবার ছারপোকার কামড়ে রক্তাক্ত হওয়ার পর ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়েছিল কর্তৃপক্ষ। এমনকি গত বছর তার্কিশ এয়ারলাইন্সের বিমানেও ছারপোকার উৎপাত নিয়ে চরম জনসংযোগ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয়েছিল তুর্কি সংস্থাকে।
বিমানের বিলাসবহুল আসন থেকে শুরু করে ফ্যাশনেবল পোশাক, সবখানেই এখন রক্তচোষা এই পরজীবীদের অনুপ্রবেশ স্বাভাবিক ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে রূপ দিচ্ছে চরম এক ভৌতিক বাস্তবতায়!