উত্তর কোরিয়ার গোয়েন্দা স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পর প্রথম পর্যায়ের প্রোপেলান্টটি (উৎক্ষেপণে ব্যবহৃত রকেট) ধ্বংস হয়েছে। মঙ্গলবার মহাকাশে সামরিক গোয়েন্দা স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পর এক বিস্ফোরণে এটি ধ্বংস হয়।
শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার জ্যোতির্বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ধারণ করা এক ভিডিওতে বিস্ফোরণে দৃশ্য দেখা গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, পশ্চিমাদের হাত থেকে এটি রক্ষা করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে এটি ধ্বংস করেছে উত্তর কোরিয়া। খবর রয়টার্স’র।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়নসেই বিশ্ববিদ্যালয় উল্কা দেখার সময় একটি ভিডিওতে রকেটটি ধ্বংস হতে দেখা গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, চোল্লিমা-১ রকেট আকাশে যাওয়ার সময় একটি পর্যায়ে বিচ্ছিন্ন হতে দেখা গেছে।
ইয়নসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিদ্যার অধ্যাপক ব্যুন ইয়ং-ইক রয়টার্সকে বলেন, মধ্য-আকাশে প্রথম পর্যায়ের প্রোপেলান্টের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে উত্তর কোরিয়া। তিনি বলেন, এর আগের উৎক্ষেপণে এমনটি দেখা যায়নি। দক্ষিণ কোরিয়া এবং মার্কিন কর্তৃপক্ষ যাতে প্রোপেলান্ট পুনরুদ্ধার করতে না পারে, সেজন্য এই কৌশল হতে পারে।
নেদারল্যান্ডসের ডেলফ্ট ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির স্যাটেলাইট বিশেষজ্ঞ মার্কো ল্যাংব্রোক বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের রকেট বিচ্ছিন্ন হওয়া দেখানো হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের বিচ্ছেদের পর প্রথম পর্যায়েরটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
ল্যাংব্রোক আরও বলেন, এটি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে নাকি দুর্ঘটনা ছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে উত্তর কোরিয়া বলেছিল, এটিতে একটি স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়েছে। রকেট ব্যর্থ হওয়ার পরে সুরক্ষার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়েছে।
তিনি অবশ্য মনে করেন, পশ্চিমাদের হাত থেকে এটি রক্ষা করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে ধ্বংস করেছে উত্তর কোরিয়া।
গত মঙ্গলবার একটি সামরিক গোয়েন্দা স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে উত্তর কোরিয়া। এটিই প্রথম নয়, এর আগেও দুইবার মহাকাশে গোয়েন্দা স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রচেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছিল তারা।