যে কারণে সুন্নি ইত্তেহাদে ইমরানের স্বতন্ত্ররা

পাকিস্তানের রাজনীতিতে একের পর এক নাটক হয়ে যাচ্ছে। সরকার গঠন নিয়ে নওয়াজ ও বিলওয়ালের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও দর কষাকষির মধ্যে সরকার গঠনে জোট করার ঘোষণা দিয়ে দেন নির্বাচনে ম্যাজিক দেখানো ইমরান খান। সেই সঙ্গে দাবি করে জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখানোর।

ভোটে সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও, পিটিআই দলের সব প্রার্থীরা নির্দলীয় হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। সেজন্য সরকার গড়তে পারছে না ইমরানের দল । সেই সমস্যা দূর করতেই পাকিস্তানের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল সুন্নি ইত্তেহাদ কাউন্সিলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অন্য দলের সঙ্গে জোট করে সরকার গড়ার কথা ঘোষণা করে পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর আলী খান সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, আমরা ঐকমত্যে পৌঁছেছি যে, আমাদের প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদের প্রার্থীরা সুন্নি ইত্তেহাদ কাউন্সিলে যোগ দেবেন।

চুক্তি অনুযায়ী, পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে সুন্নি ইত্তেহাদ কাউন্সিলে যোগ দিতে শুরু করেছেন। এ পর্যন্ত ৮২ জন সদস্য দলটিতে যোগ দিয়েছেন। পাকিস্তানে সরকার গঠন করার জন্য একটি দল বা জোটকে পার্লামেন্ট ১৬৯টি আসন পেতে হয়।

আর পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের ৩৩৬টি আসনের মধ্যে ২৬৬টি আসনের জনপ্রতিনিধি সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন। এর বাইরে ৭০টি সংরক্ষিত আসন রয়েছে, যার মধ্যে ৬০টি আসন নারীদের এবং ১০টি অমুসলিমদের। জাতীয় পরিষদে কোন দলের আসন সংখ্যা কত, সেটির ওপরে নির্ভর এসব আসন বণ্টন হয়।

তবে পাকিস্তানের নিয়ম অনুযায়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জাতীয় পরিষদের সংরক্ষিত আসন বণ্টনে ভূমিকা রাখতে পারেন না। সে কারণেই সুন্নি ইত্তেহাদ কাউন্সিলে যোগ দিচ্ছেন পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পিটিই-এর  সঙ্গে সমঝোতার পরই স্বতন্ত্র আসন পেতে দেশটির নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছে সুন্নি ইত্তেহাদ।

চিঠিতে বলা হয়েছে , এখন পর্যন্ত তেহরিক-ই-ইনসাফ- পিটিআই সমর্থিত ৫০ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী সুন্নি ইত্তেহাদে যোগ দিয়েছেন। দলটির প্রধান হামিদ রেজা জানান, সংরক্ষিত আসনের জন্য পর্যায়ক্রমে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয়া হবে। কারণ, স্বতন্ত্র প্রার্থীতের ফল গোষণার গেজেট প্রকাশে তালবাহানা করছে ইসিপি।

এখন প্রশ্ন উঠেছে, একটি আসনে জয় পাওয়া সুন্নি ইত্তেহাদের আবেদনে ইসিপি সাড়া দেবে কি? নির্বাচনের পর পিটিআই-এর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দেয় নারী ও সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষিত আসনের ভাগ নিশ্চিত করা। নির্বাচনে দলটির মনোনীত প্রার্থীরাই সবচেয়ে বেশি আসনে বিজয়ী হয়েছেন।

কিন্তু দেশটির সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন স্বতন্ত্র প্রার্থীদের তিন দিনের সময় বেঁধে দেয়। এ সময়ের মধ্যে এসব প্রার্থীদের নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করতে হয় যে, তারা কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেবে, নাকি স্বতন্ত্র থাকবে।

কারণ তারা কোনো দলে যোগ দেয়ার পরই জাতীয় পরিষদেন সংরক্ষিত আসন ভাগাভাগি হয়। ফলে এসব আসনের ভাগ পেতে হলে, তাদেরকে অবশ্যই কোনো দলে যেতে হবে।এই পরিস্থিতিতে সুন্নি ইত্তেহাদ কাউন্সিলের সাথে রাজনৈতিক জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় পিটিআই।

কিন্তু তারপরও কি পিটিআই সংরক্ষিত আসন নিশ্চিত করতে পারবে?নিয়মানুযায়ী, সংরক্ষিত আসনের বরাদ্দ পেতে হলে প্রতিটি দলকে নির্বাচনের আগেই নারী ও সংখ্যালঘুদের একটি তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয়। কিন্তু সুন্নি ইত্তেহাদ কাউন্সিল সেটি করেনি বলে জানানো হয়েছে।

তারপরও স্বতন্ত্র সদস্যরা এখন যেহেতু সাথে যুক্ত হয়েছে, সেক্ষেত্রে দলটি এখন সংরক্ষিত আসনগুলোর জন্য একটা আবেদন করতে পারে; আর সে অনুযায়ী সুন্নি ইত্তেহাদ ইতোমধ্যেই আবেদন করেছে। তবে তাদেরকে আসন দেওয়া হবে কি না, সেটি এখন নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার।