ভারতের রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) প্রধান ও বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদবের হারানো আসন পুনরুদ্ধারে নেমেছেন তার কন্যা রোহিণী আচার্য। বিহারের সারান আসনে এবারের লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছে তিনি।
কিন্তু বিভ্রান্তি দেখা বেধেছে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম নিয়ে, হুবহু বাবার নামের নাম। রোহিণীর প্রতিযোগী আরেক লালুপ্রসাদ যাদব।
এই লালু বিহারের সারান জেলার এক কৃষক। সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর নামের সঙ্গে তার নামের যেমন মিল, তেমনি মিল দুইজনের রাজনৈতিক দলের নামেও। কৃষক লালুর দলের নাম রাষ্ট্রীয় জনসম্ভাবনা দল (আরজেপি)। আর এই দল থেকে রোহিণী আচার্যের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন।
আর এ কারণেই প্রতিদ্বন্দ্বীরা নতুন লালুকে নানা উপাধি দিয়ে কটাক্ষ করতে শুরু করেছেন। তবে এ সবে পাত্তা দিচ্ছেন না কৃষক লালু। আর তার খুব একটা সমর্থনও নেই। তিনি রোহিণীর ভোট কাটতে ক্রীড়নক হিসেবে নেমেছেন বলেও মন্তব্য অনেকের।
এর আগেও কৃষক লালু কয়েকদফায় ভোট করেছেন। এমনকি ২০১৭ ও ২০২২ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রস্তাবক জোগাড় করতে ব্যর্থ হন তিনি। এ কারণেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে লালুর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়।
কিন্তু নির্বাচনকে তিনি স্বভাবজাত বিষয় হিসেবেই নিয়েছেন। এই লালু বলেন, গত কয়েকবার সারান থেকে নির্বাচনে করেছি। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী রাবড়ি দেবীর বিরুদ্ধেও প্রার্থী হয়েছিলাম। এবার আমি তার কন্যা রোহিণীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি।
আগে হারলেও এবার ভোটে বিজয়ী হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী তিনি। লালুর ধারণা, সারণের মানুষ ভোট দিয়ে তাকে জিতিয়ে আনবেন।
বিহারে অত্যন্ত প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ সাবেক মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদব। তিনি ছিলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী। ১৯৯০ সাল থেকে কয়েক দফায় মুখ্যমন্ত্রী হন। তার স্ত্রী রাবড়ি দেবীও মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।
এক সময় প্রবাদ ছিলো যে, সামোসাতে যতোদিন আলু থাকবে, ততোদিন বিহারে চলবে লালুপ্রসাদ যাদবের শাসন।
কিন্তু লালুপ্রসাদ যাদব পরিবারের বিহার শাসনের পাট চুকেছে প্রায় দুই দশক আগে। তার দল রাজ্য ক্ষমতা থেকে ছিটকে গেছে ২০০৫ সালে। এরপর একাধিক মামলায় সাজা হয় এক সময়ের প্রতাপশালী লালুর।