এমপি হলেন ইন্দিরা গান্ধীর খুনির ছেলে

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর খুনির ছেলে এবারের লোকসভা ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় দেশটির রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে। 

৪০ বছর আগে ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর নিজের দুই দেহরক্ষীর গুলিতে নিহত হন তখনকার কংগ্রেসপ্রধান ইন্দিরা গান্ধী। ব্রাশ ফায়ারে ঝাঁজরা হয়ে যায় তার দেহ। নৃশংস সেই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন দুই শিখ দেহরক্ষী। 

তাদেরই একজন বিয়ন্ত সিং। ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার পর অস্ত্র ফেলে আত্মসমর্পণ করেন বিয়ন্ত। পরে তাকেও গুলি করে হত্যা করা হয়। 

সেই বিয়ন্ত সিংহের ছেলে সর্বজিৎ সিংহ খালসা এবার কংগ্রেস প্রার্থীকে ৭০ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। পাঞ্জাবের ফরিদকোট আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। 

তার কাছে পরাজিত হয়েছেন কংগ্রেসের হয়ে ভোটে লড়া জনপ্রিয় অভিনেতা এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বন্ধু করমজিৎ অনমোল। 

চার দশক পরে এসে ইন্দিরা হত্যার স্মৃতি ফিকে হয়ে গেলেও, খুনির ছেলে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় নতুন করে রাজনীতির মাঠে নানা আলোচনা চলছে। 

বিতর্ক চলছে আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয় নিয়েও। পাঞ্জাবের খাদুর সাহেব আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিচ্ছিন্নতাবাদী খালিস্তানি নেতা অমৃতপাল সিংহ। বর্তমানে তিনি কারাবন্দী রয়েছেন।

ইন্দিরা গান্ধীর খুনির ছেলে এমপি হয়ে সংসদে শপথ নিতে যাচ্ছেন। নির্বাচিত হয়ে সংসদে যাচ্ছেন খালিস্তানি এক বিচ্ছিন্নতাবাদীও। এদের হাত ধরে পাঞ্জাবের রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। 

পাঞ্জাবে লোকসভা আসন ১৩টি। এর মধ্যে কংগ্রেস বিজয়ী হয়েছে সাতটি আসনে। তিনটি আসন পেয়েছে আম আদমি পার্টি। ওই রাজ্যে বিজেপি কোনো আসন পায়নি। 

gandi

বিয়ন্তের ছেলে সর্বজিতের ভোটে লড়ার রেকর্ড পুরোনো। আবার তাদের পরিবারও অনেক আগে থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সর্বজিতের দাদা অর্থাৎ বিয়ন্তের বাবা সুচা সিংহ ছিলেন পাঞ্জাবের ভাতিণ্ডা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। 

দাদার আসন ভাতিন্ডা থেকেই ২০০৯ সালে প্রথম প্রার্থী হন সর্বজিৎ। হারের পর ২০১৪ সালে আবার প্রার্থী হন ফতেগড় সাহেব আসন থেকে। সেবারও হারেন। ২০১৯ সালে ভোট করেননি। তবে এবার বেশ ভালোভাবেই জিতেছেন তিনি। 

বিচ্ছিন্নতাবাদী খালিস্তানিদের সরাতে ১৯৮৪ সালে পাঞ্জাবের স্বর্ণমন্দিরে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন তখনকার প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। সেই অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন ব্লু স্টার’, যা নিয়ে সারা ভারতেই সমালোচনা রয়েছে। 

স্বর্ণমন্দিরের অভিযানে নিহত হন শিখ সম্প্রদায়ের বহু মানুষ। আর এ ঘটনায় ইন্দিরার বিরুদ্ধে প্রচণ্ড ক্ষোভ তৈরি হয় শিখ অধ্যুষিত পাঞ্জাবে। ধারণা করা হয়, ওই ক্ষোভ থেকেই দুই শিখ দেহরক্ষী ইন্দিরাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। 

শোনা যায়, স্বর্ণমন্দিরে সেনা অভিযান নিয়ে পাঞ্জাবে ক্ষোভের মধ্যে দুই শিখ দেহরক্ষীকে সরিয়ে দেয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু তাদের বিশ্বস্ত উল্লেখ করে ইন্দিরা গান্ধী ওই অনুরোধ কানে তোলেননি।  

এরপরই নিজের বাসভবনে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে গুলি করে হত্যা করেন বিয়ন্ত সিং ও সৎবন্ত সিংহ। ইন্দিার দেহে ৩১ রাউন্ড গুলি চালানো হয়। তিন থেকে চার রাউন্ড গুলি করেন বিয়ন্ত সিং। আর বাকি গুলি চালান সৎবন্ত সিং।

হত্যার পর অস্ত্র ফেলে দুজনেই আত্মসমর্পণ করেন। অন্যান্য নিরাপত্তারক্ষীরা ছুটে আসে। তাদেরকে বন্দী করে একটি ঘরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়া। শোনা যায়, সেখানেই গুলি করে হত্যা করা হয় বিয়ন্ত সিংকে। 

আর গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলা হয় সৎবন্তকে। আদালত ফাঁসির আদেশ দিলে দিল্লির তিহার জেলে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।