বলিউডের রূপালী পর্দায় ফ্লপ নায়ক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা চিরাগ পাসওয়ান রাজনীতির মাঠে টপ হতে খুব বেশি সময় নেননি। এবারের লোকসভা নির্বাচনে বিহারের হাজিপুর কেন্দ্র থেকে ছয় লাখের বেশি ভোট পেয়ে জিতেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, মোদীর মন্ত্রিসভায় মন্ত্রীর দায়িত্বও পেয়েছেন তিনি।
বলিউডে চিরাগের ক্যারিয়ারের শুরু ২০১১ সালে। বর্তমান বিজেপি এমপি অভিনেত্রী কঙ্গনা রানওয়াতের সঙ্গে চিরাগ জুটি বেঁধেছিলেন ‘মিলে না মিলে হাম’ সিনেমায়। ২০১১ সালের নভেম্বরে সেই সিনেমা মুক্তির পর বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে।
সিনেমার মান এতোটাই খারাপ ছিল যে তার আইএমডিবি রেটিং জোটে সাড়ে তিনি। এরপর বিভিন্ন সময় সিনেমা নিয়ে কথা বললেও আর রূপালী পর্দায় অভিনয়ে দেখা যায়নি তাকে।
রাজনীতির মাঠে তার ক্যারিয়ারের শুরুটা বলিউডের মতো ছিলো না। রাজনীতিবিদ বাবা রামবিলাস পাসওয়ানের হাত ধরেই রাজনীতির মাঠে আসেন চিরাগ। ফ্লপ নায়কের তকমা নিয়ে বলিউড ছেড়ে বাবার পরামর্শে ২০১৪ সালে বিহারের জামুই থেকে লোকসভা নির্বাচনে লড়ে জিতে যান চিরাগ।
সুদর্শন যুবক চিরাগকে নিয়ে ধীরে ধীরে আগ্রহ বাড়তে থাকে বিহারের রাজনীতিতে। পরেরবার ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনেও জামুই কেন্দ্র থেকে নির্বাচন করে আসন ধরে রাখেন তিনি।
২০২০ সালে বাবা রামবিলাসের মৃত্যুর পর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে চিরাগ ও তার চাচা পশুপতি পাসওয়ানের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। সেই বছর বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে এনডিএ ছাড়েন চিরাগ।
সেবারে বলিউডের মতোই রাজনীতির মাঠেও কোণঠাসা হয়ে পড়েন তিনি। তবে এবার তিনি হাল ছাড়েননি। বাবার ভোটব্যাংক সব সময়ই তার সঙ্গে ছিল। এটাই ছিল তার বড় শক্তি। চিরাগের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তাকে স্বীকৃতি দিয়ে ২০২৩ সালে তাকে স্বাগত জানায় বিজেপি।
এবারের লোকসভা নির্বাচনে ভারতের জাতীয় নির্বাচনে এনডিএর শরিক দল লোক জনশক্তি পার্টির (রামবিলাস) হয়ে নির্বাচনে অংশ নেন চিরাগ। বাবার আসন বিহারের হাজিপুরে চিরাগ আরজেডির প্রার্থীকে হারিয়েছেন প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার ভোটে। তার বাবা রামবিলাস ছিলেন এই আসনের আটবারের জয়ী জনপ্রিয় নেতা।
ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, শুরুর দিকে জাতীয় রাজনীতিতে বাবা রামবিলাস পাসওয়ানের মতো ততটা সমাদৃত ছিলেন না চিরাগ। তবে নিজেই বদলেছেন নিজের ভাগ্য। রাজনীতিক পরিবারে বেড়ে ওঠায় সাহস নিয়ে সবকিছু মোকাবিলা করেছেন।
বলিউড থেকে ফ্লপ হয়ে বিহারে ফিরলেও, বিহারের গণ্ডি ছাপিয়ে এখন তিনি ভারতের জাতীয় রাজনীতির জনপ্রিয় নেতা। তৃতীয় দফায় মোদীর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথের পর জানা যায়, চিরাগ এবার মোদীর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায়ও জায়গা করে নিয়েছেন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। বলিউডের ফ্লপ হিরোর এভাবে রাজনীতির টপে পৌঁছে যাওয়ার ঘটনায় এখন আনন্দের বাতাস বইছে বিহারের রাজনীতিতে।