রাজ্যপালের নিয়োগপত্র হাতেই রাজভবন ছাড়েন বিজয়

গত কয়েক দিন ধরে সরকার গঠন নিয়ে বিজয় সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও, শনিবার সন্ধ্যার চিত্র ছিল একেবারেই ভিন্ন। ভিাসিকে এবং মুসলিম লিগের চার বিধায়কের সমর্থনপত্র পাওয়ার পরই বিজয়ের নেতৃত্বাধীন জোটের বিধায়ক সংখ্যা পৌঁছায় ১২০-এ। এর আগে কংগ্রেস ও বাম দলগুলো সমর্থন দেয়ায় ম্যাজিক ফিগার ১১৮ অতিক্রম করা বিজয়ের জন্য সহজ হয়ে যায়।

এনডিটিভি সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকার বিশেষভাবে নতুন দুই শরিক দলের সমর্থনপত্রগুলো খতিয়ে দেখেন। বিজয় যখন তাঁর প্রয়োজনীয় সংখ্যাধিক্য প্রমাণ করতে সক্ষম হন, তখন রাজ্যপাল নিজেই তাঁকে শপথ গ্রহণের সময় ও তারিখ ঠিক করতে বলেন।

বিজয় কালক্ষেপণ না করে রোববার সকাল ১০টাকেই বেছে নেন। রাজ্যপাল জানান, এক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি নিয়োগপত্র পাঠিয়ে দেবেন, কিন্তু বিজয় ঝুঁকি না নিয়ে সেখানেই অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। ঠিক এক ঘণ্টা পর নিয়োগপত্র হাতে নিয়েই বিজয় রাজভবন ত্যাগ করেন।

vijay thalapathy
হালুয়া-ভর্তা আর ভিডিও কলে হুলস্থুল

এদিন বিজয়ের সঙ্গে রাজভবনে যান জোটসঙ্গী কংগ্রেস, সিপিআই(এম), সিপিআই এবং ভিসিকে’র শীর্ষ নেতারা। গুরুগম্ভীর আলোচনার মাঝেও পরিবেশ ছিল বেশ ঘরোয়া। রাজভবনের পক্ষ থেকে অতিথিদের কফি, বড়া এবং হালুয়া দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।

সবচেয়ে মজার মুহূর্ত তৈরি হয় যখন জোটের শরিক নেতারা বিজয়ের পাশে বসে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ভিডিও কল করেন। সুপারস্টার বিজয়ও হাসিমুখে সেই সব নেতাদের ছেলেমেয়ের সঙ্গে কথা বলেন, যা গুমোট রাজনৈতিক পরিবেশে এক চিলতে স্বস্তি নিয়ে আসে।

সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে কাল রোববার চেন্নাইয়ের নেহরু স্টেডিয়ামে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শপথ নেবেন বিজয়। এই অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের রাহুল গান্ধীসহ জাতীয় রাজনীতির অনেক হেভিওয়েট নেতার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রিয় তারকাকে ‘মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবে দেখার জন্য এখন চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় তামিলনাড়ুর সাধারণ মানুষ।