শপথ নিয়েই পুরোপুরি ‘অ্যাকশন’ মুডে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়

তামিলনাড়ুর রাজনীতির আঙিনায় পা রেখেই নিজের জাত চেনালেন থালাপাতি সি. জোসেফ বিজয়। আজ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই তিনি এমন কিছু ফাইলে সই করেছেন, যা তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। একদিকে সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তি, অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ডিএমকে’র জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, সব মিলিয়ে বিজয়ের প্রথম দিনই ছিল উত্তেজনায় ভরপুর।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয় যে প্রথম ফাইলটিতে সই করেছেন, তা হলো গার্হস্থ্য গ্রাহকদের জন্য ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ প্রদান। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য এটি ছিল তাঁর প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার। এর পাশাপাশি আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে তিনি অনুমোদন দিয়েছেন-

নারী সুরক্ষায় একটি বিশেষ বাহিনী গঠন এবং মাদক নির্মূলে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় একটি করে অ্যান্টি-ড্রাগ ইউনিট স্থাপন, যা যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে কাজ করবে।


ডিএমকে’র ঋণের বোঝা ও শ্বেতপত্র:
বিজয়ের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চালটি ছিল তাঁর পূর্বসূরি ডিএমকে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে। তিনি ঘোষণা করেছেন, গত মেয়াদে রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতির ওপর একটি ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করা হবে। বিজয়ের দাবি, ডিএমকে সরকার আমাদের কাঁধে ১০ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে গেছে। আমি জনগণকে জানাতে চাই, পূর্ববর্তী সরকার আমাকে কতটা ঋণের ভারে জর্জরিত করে রেখে গেছে।

স্বচ্ছ প্রশাসন ও বিরোধীদের প্রতি বার্তা: শপথ অনুষ্ঠানের পর ভাষণে বিজয় একটি স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের অঙ্গীকার করেন। পর্দার আড়ালে কোনো গোপন আঁতাত না করে জনগণের সামনে প্রকাশ্য জবাবদিহিতার কথা বলেন তিনি। এআইএডিএমকে ও ডিএমকে’র সম্ভাব্য গোপন রাজনৈতিক সমঝোতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, তাঁর প্রশাসন কোনো ‘বন্ধ দরজার’ রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়।


‘বিজয় মামা’র বার্তা তরুণ প্রজন্মের প্রতি:
নিজের বিশাল অনুরাগী গোষ্ঠী, বিশেষ করে জেন-জি এবং মিলেনিয়ালদের উদ্দেশ্যে বিজয় এক আবেগঘন বার্তা দেন। তামিল ভাষায় নিজের ভক্তদের ‘নানবা’ ও ‘নানবি’ (বন্ধু) সম্বোধন করে তিনি বলেন, তোমরাই আমার জীবন। আমার তরুণ বন্ধুদের জন্য এই বিজয় মামা সবকিছু করবে। গত দুই বছর ধরে তাঁর হয়ে নিরলস কাজ করা ‘ভার্চুয়াল যোদ্ধাদের’ প্রতিও তিনি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

একা হাতেই শাসনভার: সরকার পরিচালনায় স্থিতিশীলতা নিয়ে বিজয় পুনরায় আশ্বস্ত করেছেন, এই প্রশাসনে ক্ষমতার কোনো দ্বিতীয় উৎস থাকবে না। যদিও ২৩৪ আসনের বিধানসভায় ১২০টি আসন নিয়ে তাঁর সরকার অত্যন্ত স্বল্প সংখ্যাগরিষ্ঠতায় রয়েছে, তবুও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনিই হবেন প্রশাসনের একমাত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী। তাঁর এই বক্তব্য মূলত মিত্রদলগুলোর সম্ভাব্য চাপ উপেক্ষা করে নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠারই একটি কৌশলী প্রয়াস।


শিক্ষা, খাদ্য, স্বাস্থ্য এবং নারী নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে যাত্রা শুরু করা বিজয় সমালোচকদেরও আপন করে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, ১০ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে তাঁর এই উচ্চাভিলাষী প্রতিশ্রুতিগুলো কত দ্রুত এবং সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেন নতুন এই মুখ্যমন্ত্রী।