প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিনের বাসভবনে বিজয় থালাপাতি

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর সৌজন্যের এক বিরল ছবি দেখা গেল চেন্নাইয়ের আলওয়ারপেটে। বিধানসভা নির্বাচনে নজিরবিহীন জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার ঠিক একদিন পরেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও ডিএমকে সুপ্রিমো এম কে স্ট্যালিনের সঙ্গে দেখা করলেন টিভিকে প্রধান জোসেফ সি. বিজয়; ওরফে থালাপাতি বিজয়। সোমবার স্ট্যালিনের বাসভবনে গিয়ে এই ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ সারেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা নবনির্বাচিত এই মুখ্যমন্ত্রী।


এদিন কালো সুট পরিহিত বিজয় স্ট্যালিনের বাসভবনে পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান স্ট্যালিন এবং তাঁর পুত্র উদয়নিধি স্ট্যালিন। দুই নেতার সাক্ষাতের শুরুতে বিজয় হাত জোড় করে প্রবীণ নেতা স্ট্যালিনকে অভিবাদন জানান। এরপর তাঁদের মধ্যে করমর্দন এবং উষ্ণ আলিঙ্গন বিনিময় হতে দেখা যায়। পারস্পরিক শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে তাঁরা একে অপরকে রেশমি শাল এবং ফুলের তোড়া উপহার দেন।

বৈঠক শেষে স্ট্যালিন সামাজিক মাধ্যম এক্সে এই সাক্ষাতের ছবি শেয়ার করে লেখেন, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করা মাননীয় বিজয় রাজনৈতিক সৌজন্য বজায় রেখে আমার সাথে দেখা করেছেন। আমি তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শও দিয়েছি।


এই সৌজন্য সাক্ষাৎ এমন এক সময়ে ঘটল যখন আগামী ১৩ মে তামিলনাড়ু বিধানসভায় বিজয় সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে। উল্লেখ্য, বিজয়ের টিভিকের বর্তমানে ১০৭টি আসন রয়েছে এবং কংগ্রেস, ভিসিকে, আইইউএমএল ও বামপন্থীদের ১৩ জন বিধায়ক তাঁকে সমর্থন দিচ্ছেন। মজার বিষয়, বিজয়ের সরকারকে সমর্থন দেয়া এই দলগুলো আবার রাজ্যে স্ট্যালিনের নেতৃত্বাধীন ডিএমকে জোটেরও শরিক।

যদিও এই সাক্ষাৎ ছিল অত্যন্ত সৌজন্যপূর্ণ, তবে রাজনৈতিক লড়াই থেমে নেই। শপথ নেয়ার পরপরই বিজয় গত ডিএমকে সরকারের আমলে রাজ্যের ১০ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। এমনকি নাম না করে ডিএমকের ‘একাধিক ক্ষমতার কেন্দ্র’ নিয়েও খোঁচা দিয়েছিলেন তিনি। পাল্টা জবাবে স্ট্যালিনও বিজয়ের ঋণের বোঝা সংক্রান্ত অভিযোগের কড়া উত্তর দিয়েছিলেন।


রাজনৈতিক ময়দানে বাগযুদ্ধ চললেও, ব্যক্তিগত স্তরে স্ট্যালিন ও বিজয়ের এই উষ্ণ সমীকরণ তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। ফ্লোর টেস্টের আগে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ কি কোনো নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত, নাকি শুধুই শিষ্টাচার. তা নিয়ে এখন চর্চা চলছে দক্ষিণী রাজনীতির অলিন্দে।

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে