চাপের মুখে পিছু হঠলেন বিজয়, জ্যোতিষীর নিয়োগ বাতিল

ভারতের তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নাটকীয় মোড়! মুখ্যমন্ত্রী বিজয় থালাপাতির ব্যক্তিগত স্টাফ হিসেবে এক জ্যোতিষীকে নিয়োগ দিয়ে যে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত প্রবল চাপের মুখে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এল নবগঠিত ‘তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম’ (টিভিকে) সরকার। বুধবার বিধানসভায় আস্থা ভোটে জয়ের পরপরই জ্যোতিষী রিকি রাধন পণ্ডিত ভেট্টিভেলের নিয়োগপত্র বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়।

গত মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের ‘অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি’ (রাজনৈতিক) হিসেবে রিকি রাধন পণ্ডিতকে নিয়োগ দেয় সরকার। পেশায় জ্যোতিষী এই ব্যক্তি বিজয়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। শোনা যায়, তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী মেনেই বিজয় শপথ গ্রহণের সময় পরিবর্তন করেছিলেন। কিন্তু, একজন জ্যোতিষীকে সরকারি পদে বসানো নিয়ে মুহুর্তেই শুরু হয় সমালোচনার ঝড়।


বুধবার সকালে বিধানসভায় আস্থা ভোটের সময় এই নিয়োগ নিয়ে সরব হন বিরোধীরা। ডিএমডিকে সাধারণ সম্পাদক প্রেমলতা বিজয়ারকান্ত বিধানসভার ফ্লোরে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর ওএসডি হিসেবে একজন জ্যোতিষীর নিয়োগ আমি তীব্র নিন্দা জানাই। আপনারা তরুণ প্রজন্মকে কী বার্তা দিতে চান? তিনি আপনার ব্যক্তিগত জ্যোতিষী হলে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবেই রাখুন, সরকারি পদে নয়।

বিজয়ের মিত্র দলগুলোও এই সিদ্ধান্তে নাখোশ ছিল। পাঁচ আসন নিয়ে সরকারকে সমর্থন দেওয়া কংগ্রেসের সাংসদ শশীকান্ত সেন্থিল সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তোলেন, একজন জ্যোতিষী কেন ওএসডি পদের প্রয়োজন, তা কেউ বুঝিয়ে দেবেন কি? এছাড়া ভিসিকে নেতা ডি. রবিকুমার একে একটি ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের জন্য ‘অগ্রহণযোগ্য’ এবং ‘বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিপন্থী’ বলে অভিহিত করেন। বামরাও এর বিরোধিতা করে।


বিতর্কের মুখে টিভিকের পক্ষ থেকে নির্মল কুমার দাবি করেন, রাধন পণ্ডিত শুধু একজন মিডিয়া মুখপাত্র হিসেবে কাজ করবেন এবং তাঁর ব্যক্তিগত পেশা এখানে অপ্রাসঙ্গিক। কিন্তু মিত্রদের অসন্তোষ এবং বিধানসভায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে বিজয় সরকার বুঝতে পারে, এই সিদ্ধান্ত টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। আস্থা ভোটে জয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরকার নিয়োগ বাতিল করার আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করে।

উল্লেখ্য, রিকি রাধন পণ্ডিতের রাজনৈতিক যোগসূত্র বেশ পুরনো। তিনি তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতারও ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে জানা যায়। এআইএডিএমকে জমানায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তাঁর পরামর্শে নেয়া হতো বলে খবর প্রচলিত আছে। তবে দুর্নীতির মামলায় জয়ললিতার জেল হওয়ার বিষয়ে ভুল ভবিষ্যদ্বাণী করার পর তাঁদের সম্পর্কে ফাটল ধরেছিল।

আস্থা ভোটে জিতে সরকারের ভিত শক্ত করলেও, প্রথম বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেই হোঁচট খেলেন অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয়। জ্যোতিষী নিয়োগ বাতিলের এই ঘটনা প্রমাণ করল যে, সরকার পরিচালনায় মিত্রদের ভাবাবেগ এবং জনমতের চাপ উপেক্ষা করা নবীন এই রাজনৈতিক দলের জন্য সহজ হবে না।