বিএসএফ জওয়ানের বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ!

ছুটিতে বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা করে ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার নাটক সাজানোর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক সীমান্ত রক্ষা বাহিনী- বিএসএফ জওয়ানের বিরুদ্ধে। পাঞ্জাবের হোশিয়ারপুর জেলায় ঘটে যাওয়া এই নারকীয় ঘটনা ঘিরে ইতোমধ্যে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত জওয়ান অমরজিৎ সিংকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও ঘটনার পর থেকে পলাতক তাঁর কাকা ও কাকিমা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত গৃহবধূর নাম রমা। প্রায় ১২ বছর আগে অমরজিৎ সিংয়ের সাথে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। এই দম্পতির একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে।

রমার পরিবারের দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৩ আগস্ট রাতে ছুটি নিয়ে বাড়িতে ফেরেন বিএসএফ জওয়ান অমরজিৎ সিং। অভিযোগ উঠেছে, বাড়িতে আসার পরই সামান্য বিষয় নিয়ে রমার ওপর চড়াও হন তিনি এবং তাঁকে অমানবিক শারীরিক নির্যাতন চালান। মারধরের একপর্যায়ে মারাত্মক আঘাত পেয়ে রমা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

পরদিন অর্থাৎ ১৪ আগস্ট ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে রমার বাপের বাড়িতে খবর দেওয়া হয়, তিনি দুর্ঘটনাবশত ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে মারাত্মক আহত হয়েছেন এবং তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে স্বজনরা দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেখতে পান, ততক্ষণে রমার মৃত্যু ঘটেছে।

হাসপাতালে রমার নিথর দেহ দেখার পরই পরিবারের সন্দেহ দানা বাঁধে। তাঁর শরীরে একাধিক গুরুতর আঘাত ও জখমের দাগ দেখে স্বজনরা নিশ্চিত হন, তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। স্বজনদের দাবি, অপরাধ ঢাকতে ও নিজেদের বাঁচাতেই ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার নাটক সাজিয়েছিল স্বামী অমরজিৎ।

নিহতের বাবা রাম চাঁদ অভিযোগ করে জানান, বিয়ের পর থেকেই তাঁর মেয়ে রমা স্বামীর কাছে ক্রমাগত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন।

ঘটনার তদন্তে নেমে হোশিয়ারপুর পুলিশ মূল অভিযুক্ত বিএসএফ জওয়ান অমরজিৎ সিং, তাঁর কাকা কুলদীপ কুকি এবং কাকিমা সোনিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ অভিযুক্ত অমরজিৎকে গ্রেপ্তার করলেও বাকি দুজন পলাতক রয়েছেন।

স্টেশন হাউস অফিসার হরপ্রেম সিং জানান, পুরো ঘটনার নিবিড় তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর রমার মরদেহ তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং নিজ গ্রামে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে। তবে দেশের সুরক্ষায় নিয়োজিত জওয়ানের এমন নৃশংস কর্মকাণ্ডে স্তম্ভিত এলাকাবাসী!

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি