বলিউডের ব্লকবাস্টার ক্রাইম-থ্রিলার সিনেমা 'দৃশ্যম' দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে স্বামীকে জঘন্য কায়দায় হত্যার নীল নকশা এঁকেছিলেন স্ত্রী! স্বামীকে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা, ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে বেধড়ক পেটানো এবং ঘরের ভেতরে তৈরি করা ইট-সিমেন্টের কাঠামোর মধ্যে জীবন্ত পুঁতে ফেলার চেষ্টার এক হাড়হিম করা ঘটনা ঘটেছে ভারতের মহারাষ্ট্রের বারামতিতে। তবে মিস্ত্রিদের বুদ্ধিমত্তা ও সময়মতো উপস্থিতিতে অলৌকিকভাবে প্রাণ বেঁচে গেছে ওই স্বামীর!
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ৩৮ বছর বয়সী অভিযুক্ত নারী শর্মিলা প্রবীণ জগৎপকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আর মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা ব্যক্তি হলেন তাঁর স্বামী প্রবীণ জগৎপ।
তদন্ত বলছে, গত ৩০ জুলাই থেকেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেন শর্মিলা। ওই দিন তিনি স্বামী প্রবীণকে জুসের সঙ্গে কড়া মাত্রার ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন। জুস পানের পর প্রবীণ টানা দুই দিন সম্পূর্ণ অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকেন। এরপর ১ আগস্ট প্রবীণ যখন আধা-চেতন অবস্থায় ছিলেন, তখন শর্মিলা ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে তাঁর ওপর নির্মম অত্যাচার শুরু করেন এবং এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকেন।
এরপর স্বামীকে হত্যা করে লাশ গুম করতে আগে থেকেই রাজমিস্ত্রি ডেকে বারান্দায় ইট ও সিমেন্ট দিয়ে একটি চারকোনা পাকা কাঠামো বা গর্ত তৈরি করিয়েছিলেন শর্মিলা। আধা-চেতন স্বামীকে সেই গর্তের ভেতরে ফেলে ওপর থেকে ভারী পাথরের স্ল্যাব দিয়ে সিল করে দেওয়ার চেষ্টা চালান তিনি।
তবে ভাগ্যিস, শর্মিলার এই কাণ্ড দেখে সন্দেহ হয় কাজে আসা শ্রমিকদের! তাঁরা গর্তের ভেতরে প্রবীণের হাত-পা নড়তে দেখেন। বিপদের গন্ধ পেয়ে রাজমিস্ত্রিরা মুহূর্ত বিলম্ব না করে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তসংক্রান্ত প্রবীণকে উদ্ধার করে পুলিশ হাসপাতালে পাঠায়।
ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে প্রবীণ বলেন, আমাকে ঘুমের ওষুধ দিয়ে দুই দিন অবচেতন করে রেখেছিল। তিন দিনের মাথায় জ্ঞান একটু ফিরতেই দেখি ও আমাকে ব্যাট দিয়ে পেটাচ্ছে। আমি বহু আকুতি-মিনতি করেছিলাম না মারার জন্য, কিন্তু ও শোনেনি। আমাকে টেনে নিয়ে বারান্দার গর্তে ফেলে দেয়। রাজমিস্ত্রিরা আমার হাত-পা নড়তে দেখে পুলিশে খবর না দিলে, আজ আমি বেঁচে থাকতাম না।
প্রবীণ আরও জানান, ঘটনার দিন তাঁর বৃদ্ধা মা-ও বাড়িতে ছিলেন। শর্মিলা তাঁকেও জুসে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে রেখেছিলেন। তবে বেধড়ক মারধরের শব্দে মায়ের আধো-জ্ঞান ফিরলে তিনি কোনোমতে অন্য ছেলেকে খবর দেন। প্রবীণের ভাই এসে দরজা খুলে তাঁকে গর্তের ভেতরে দেখতে পান এবং উদ্ধারকাজে হাত বাড়ান।
ঘটনাটিতে ‘কালা জাদু’ বা ডাইনিবিদ্যার যোগ রয়েছে বলে সন্দেহ প্রবীণের। তিনি জানান, বাড়ির ক্যালেন্ডারে অমাবস্যার দুটি দিনে (১৩ ও ১৪ জুলাই) শর্মিলার হাতের লেখায় 'নো রেজাল্ট' (কোনো ফল মেলেনি) লেখা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া কোনো ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই যে ফার্মেসি শর্মিলার কাছে এমন কড়া ঘুমের ওষুধ বিক্রি করেছে, তাদের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বর্তমানে শর্মিলার বাবা-মা তাঁদের দুই সন্তানকে (এক ছেলে ও এক মেয়ে) নিজেদের কাছে নিয়ে গেছেন। প্রবীণ আশঙ্কা করছেন, তাঁর সন্তানদের জীবনও চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি অনতিবিলম্বে পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে নিজের সন্তানদের কাস্টডি ফেরত পাওয়ার আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
প্রবীণের বাবার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত শর্মিলাকে গ্রেপ্তার করে পুরো ঘটনার পেছনের অন্ধকার রহস্য উন্মোচনে জোর তদন্ত শুরু করেছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
গাজায় বুঁদ পাইলট, ঘুমের ওষুধ খেয়ে ককপিটে!
ইরানি হামলার ভয়ে যেভাবে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প!
টেইলর সুইফটের সঙ্গে বিয়ের সিক্রেট ফাঁস করলেন স্বামী