গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ে কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ইমরান খানকে অবিলম্বে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত (সুপ্রিম কোর্ট)।
মঙ্গলবার, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে দীর্ঘদিনের তোলা স্বাস্থ্যসংক্রান্ত উদ্বেগের সুরাহা করে ইমরান খানের পরিবার ও পিটিআই নেতাকর্মীদের বড় ধরনের স্বস্তি এনে দেয়া হয়েছে।
ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২২ সালে অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা একের পর এক মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি থাকার কারণে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটেছিল। গত বছর তাঁর দুই ছেলে বাবার স্বাস্থ্যের বিষয়ে বারবার চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এমনকি কারাগারে যথাযথ চিকিৎসার অভাবে তাঁর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে বলে পিটিআই’র আইনজীবীরা আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সবশেষ মেডিকেল রিপোর্টের ভিত্তিতে তাঁর পরিবার ও দল হাসপাতাল স্থানান্তরের জন্য জোরালো আইনি লড়াই চালিয়ে আসছিল।
আদালতের এই গুরুত্বপূর্ণ রায়কে স্বাগত জানিয়ে পিটিআই’র মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি বলেন, এটি অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক একটি রায়। আমরা কেবল আফসোস প্রকাশ করছি যে এই নির্দেশটি আরও আগে এলে তাঁর চোখ এবং সার্বিক স্বাস্থ্যের এতটা অবনতি হতো না। তিনি আরও যোগ করেন, চিকিৎসা শেষ না হওয়া এবং ডাক্তাররা পুরোপুরি সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত ইমরান খানকে যেন হাসপাতালেই রাখা হয়।
আদালতের এই নির্দেশের পর ইমরান খানকে সুচিকিৎসার জন্য পিআইএমএস বা নির্ধারিত কোনো উন্নত বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানোর প্রস্তুতি চলছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি