বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ভুপালে নিজ শ্বশুরবাড়িতে ৩৩ বছর বয়সী মডেল ও অভিনেত্রী তৃষা শর্মার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় এবার সিবিআই চার্জশিট দিয়েছে। গত ১২ মে ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর মৃত্যুর ঘটনা পুরো ভারতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
এ মামলায় তৃষার স্বামী পেশায় আইনজীবী সমর্থ সিং এবং শাশুড়ি অবসরপ্রাপ্ত বিচারক গিরিবালা সিংয়ের বিরুদ্ধে 'আত্মহত্যায় প্ররোচনা' ও 'মানসিক নির্যাতন'-এর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
তৃষার পরিবার শুরু থেকেই যৌতুকের দাবি, নির্যাতন ও তাকে হত্যার অভিযোগ তুলে আসছিল। তবে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা আদালতে জমা দেয়া প্রায় ৬০০ পৃষ্ঠার চার্জশিটে উল্লেখ করেছে, ক্রমাগত মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে তৃষার আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।
তৃষার পরিবারের আইনজীবী অংকুর পান্ডে জানান, সিবিআই আত্মহত্যায় প্ররোচনার ধারা যুক্ত করায় মামলাটি আপাতত আত্মহত্যার দিকেই নির্দেশ করছে। তবে, সিবিআই আদালতকে জানিয়েছে, তদন্ত এখনও উন্মুক্ত রয়েছে এবং নতুন কোনো তথ্য বা প্রমাণ মিললে সম্পূরক চার্জশিট পেশ করা হতে পারে।
তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে সমর্থর সাথে তৃষার পরিচয় এবং একই বছরের ডিসেম্বরে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই সমর্থ ও তার মা তৃষার চরম মানসিক নির্যাতন ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতেন বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়।
তৃষার পরিবারের দাবি অনুযায়ী, এ বছরের এপ্রিলে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর বিরোধ চূড়ান্ত রূপ নেয়। শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাঁর সন্তান ও চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং মে মাসের প্রথম সপ্তাহে তাঁকে গর্ভপাত করাতে বাধ্য করেন। এর কিছুদিনের মধ্যেই ১২ই মে তার রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে।
মৃত্যুর পর শাশুড়ি গিরিবালা সিং এক বিতর্কিত সংবাদ সম্মেলনে তৃষার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং তাকে 'উদারপন্থী' ও স্বৈরাচারী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বলে কটূক্তি করেন, যা নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল সমালোচনার ঝড় ওঠে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ইনোশ জর্জ কার্লো দাবি করেছেন যে, সিবিআইয়ের তদন্তে হত্যা বা যৌতুক নির্যাতনের কোনো জোরালো প্রমাণ মেলেনি, যা শুরু থেকেই অভিযুক্তরা বলে আসছিলেন। বর্তমানে সাবেক ওই বিচারক এবং তার আইনজীবী ছেলে উভয়েই কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
২০১২ সালে 'মিস পুনে' খেতাবজয়ী তৃষা শর্মা বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি তেলুগু সিনেমা ও কর্পোরেট সেক্টরেও কাজ করেছিলেন। ভারতের বিচার বিভাগের মতো জায়গায় উচ্চপদে থাকা পরিবারের এই ধরনের মর্মান্তিক অপরাধে জড়িয়ে পড়া পুরো দেশে এক বড় ধরনের তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি