কাদা-পানির তোড়ে সেকেন্ডে উধাও সেতু ও বাড়িঘর

তিব্বত থেকে ধেয়ে আসা ক্ষিপ্রগতির কাদা-পানির তোড়ে তছনছ হয়ে গেছে উত্তর নেপালের রসুয়া জেলা। তিব্বতে উৎপত্তি হয়ে নেপালের ত্রিশূলী নদীতে মিশে যাওয়া ভোটেকোশী নদীর এই প্রলয়ঙ্করী আকস্মিক বন্যায় বুধবার সকাল পর্যন্ত অন্তত ১৬ জনের প্রাণহানি নিশ্চিত করা হয়েছে। তিমুরে বাজার এবং রসুয়া সীমান্ত ক্রসিংয়ের শুল্ক এলাকা সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভয়াবহ ভিডিওতে দেখা যায়, মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে শক্তিশালী কাদা-পানির স্রোত একটি বিশাল সেতুকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে ভাসিয়ে নিয়ে গেল। অন্য এক ভিডিওতে তাসের ঘরের মতো পরপর দুটি বহুতল ভবন ভেঙে পড়তে দেখা যায়।


প্লাবিত আবাসিক এলাকায় বাসগুলোর চাকা সম্পূর্ণ পানির নিচে ডুবে থাকতে দেখা গেছে, আর ব্যাকগ্রাউন্ডে নিজের নিখোঁজ মেয়েকে খুঁজে এক মায়ের করুণ আর্তনাদ- ‘মেরি ছোরি কাঁহা গয়ী?’ (আমার মেয়ে কোথায় গেল?) পরিস্থিতিকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে।

উত্তরগয়া গ্রামীণ পৌরসভার সহ-সভাপতি চামেলি গুরুং 'দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট'-কে জানিয়েছেন, বন্যায় প্রায় এক ডজন বসতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে স্যাপ্রুবেসি, বেত্রাবতী, মাইলুং, সাল্লেতার, শান্তিবাজার, পাইরেবেসি, খালতি বস্তি, সোলে, ত্রিশূলী এবং বাটার এলাকা অন্যতম।

Nepal Flood 15
নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে তিমুরে মোতায়েন করা সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর অন্তত ৯ সদস্য নিখোঁজ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। রসুয়া জেলা ছাড়াও ত্রিশূলী নদী অববাহিকার নোয়াকোট, ধাদিং, চিতওয়ান, গোর্খা এবং আশেপাশের জেলাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে নেপাল পুলিশ।

নেপাল সেনাবাহিনী বলছে, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা নাগাদ তিব্বত সীমান্ত থেকে আসা এই আকস্মিক বন্যায় সীমান্ত থেকে ১২৫ কিলোমিটার দূরত্বের তিমুরে ও স্যাপ্রুবেসি এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে।

নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের হাইড্রো এবং সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো মিলিয়ে প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বণ্টন কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গোটা অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।


পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অবিনারায়ণ কাফলে এএফপি’কে বলেন, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনো নিশ্চিত করা যায়নি, তবে বন্যার আকার এতটাই বিশাল যে বহু গ্রাম ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নদী তীরের বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার অ্যালার্ট দেওয়া হয়েছে এবং আমাদের সমস্ত সম্পদ উদ্ধারকাজে নিয়োজিত করা হয়েছে।

বর্তমানে নেপাল সেনা এবং নেপাল পুলিশের যৌথ উদ্যোগে পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধারে ব্যাপক অভিযান চালানো হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স-কাঠমান্ডু পোস্ট-এনডিটিভি-এএফপি