নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে আঘাত হানা বিপর্যয়কর আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি ও ধ্বংসলীলার পরিমাণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। উভয় দেশে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৭৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। পর্বত থেকে নেমে আসা এই মহাপ্রলয়ে গ্রামকে গ্রাম তলিয়ে যাওয়া, সেতু ধসে পড়া এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর এখনও সাত শতাধিক বিদেশী নাগরিকসহ কমপক্ষে ১,৩৮৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের সন্ধানের বড় ধরনের অভিযান চলছে উপদ্রুত এলাকায়।
নেপাল ও চীনের সীমান্ত লাগোয়া পাহাড়ি উপত্যকায় এই বন্যা নেমে আসার ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও আপনজনদের কোনো খোঁজ না পেয়ে দিশেহারা স্বজনেরা। নেপালি কর্তৃপক্ষের হিসাব মতে, তাদের দেশে নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২৬ জনে, যার মধ্যে ৫১৭ জনই বিভিন্ন দেশের বিদেশী পর্যটক ও নাগরিক। অন্যদিকে চীনের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্ত সংলগ্ন জাইরং কাউন্টিতে অন্তত ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ২৬০ জন বিদেশী।
দুর্যোগের প্রায় ২২ ঘণ্টা পর চীনে চীনের উদ্ধারকারী দল জাইরং পোর্টে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। এটি চীন-নেপাল বাণিজ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণকারী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত অবকাঠামো। ১৪১ জন উদ্ধারকারীর প্রথম দলটির সাথে একটি উচ্চ-উচ্চতার হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। তবে পাহাড়ি রাস্তায় কাদা ও ধ্বংসস্তূপ জমা হওয়ায় উদ্ধারকাজ চরম ব্যাহত হচ্ছে।
অন্যদিকে নেপালে বন্যার পানি প্রবল বেগে প্রবাহিত হওয়ায় উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারগুলো বহু ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অবতরণ করতে হিমশিম খাচ্ছে। সংকটময় এই মুহূর্তে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারতসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক পক্ষ দ্রুত মানবিক সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।
হিমবাহ ধস ও দ্বিতীয় দফা বিপর্যয়ের শঙ্কা: আন্তর্জাতিক গবেষকরা ধারণা করছেন, নেপালের রসুয়া জেলায় তৈরি হওয়া এই আকস্মিক বন্যার নেপথ্যে রয়েছে বিশালাকার হিমবাহ ধস। তাঁদের মতানুযায়ী, বরফের একটি প্রকাণ্ড অংশ উঁচু পর্বত থেকে উপত্যকায় আছড়ে পড়ে এবং বর্ষার বৃষ্টিতে ইতোমধ্যে ভিজে থাকা পলি ও কাদামাটিকে সাথে নিয়ে নিচের দিকে তীব্র গতিতে ধেয়ে আসে।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি। চীনা সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, জাইরং কাউন্টিতে তিন দিন টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ধসের কারণে বিভিন্ন জায়গায় অস্থায়ী মাটির বাঁধ তৈরি হওয়ায় ভূমিধস, কাদা-ধস এবং নতুন করে প্লাবনের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের অন্যতম মূল কারণ হিসেবে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
তথ্যসূত্র: সিএনএন