নেপালের ভোটেকোশী নদীতে আচমকা সৃষ্টি হওয়া প্রলয়ঙ্করী প্লাবনের পর উদ্ধার অভিযানে নেমে চরম উদ্বেগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে দেশটির উদ্ধারকারী সংস্থাসমূহকে। সময়ের সাথে সাথে বাড়ছে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ তালিকা।
নেপালের ন্যাশনাল ডিসাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ পর্যন্ত তাদের দেশেই বিভিন্ন দেশের পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ মোট ৮২৬ জন মানুষের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের মধ্যে বেশিরভাগই বিদেশি পর্যটক।
দুর্যোগের পরপরই সাধারণ মানুষকে উদ্ধার করতে গিয়ে নিজেরাও বন্যার ভয়াল তোড়ে ভেসে গেছেন উদ্ধারকারী বাহিনীর বহু সদস্য।
প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ হওয়া ৮২৬ জনের মধ্যে নেপাল সেনাবাহিনীর ৪৪ জন, নেপাল পুলিশের ২৮ জন এবং আর্মড পুলিশ ফোর্স নেপালের ১৩ জন সদস্য রয়েছেন। রসুয়া এবং নুয়াকোট, এই দুই সীমান্ত জেলা থেকেই সরকারি হিসাবে অন্তত ১৬২ জন মানুষ পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বন্যাদুর্গত পার্বত্য অঞ্চলগুলো থেকে পর্যটকদের নিখোঁজ হওয়ার সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে ৫৯০ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ১১৪ জন নেপালি নাগরিক হলেও বাকি ৪৭৬ জনই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিদেশি পর্যটক।
নিখোঁজ হওয়া বিদেশি নাগরিকদের দেশভিত্তিক তালিকায় সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের ওপর। নিখোঁজ ৪৭৬ জন বিদেশির মধ্যে সর্বোচ্চ ১৭৭ জনই ভারতীয় নাগরিক। এছাড়া অন্যান্য দেশের নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে রয়েছেন- যুক্তরাষ্ট্রের ৬৩ জন, ইউক্রেনের ৫৩ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ জন, যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন, কানাডার ২৫ জন, জার্মানির ৮ জন, সিঙ্গাপুরের ৬ জন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ৬ জন
ভেঙে পড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নদীর দু-কূলে জমে থাকা কয়েক মিটার পুরু কাদামাটির মধ্যেও নিরলস অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। নেপাল সেনা, পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীর নিম্নাঞ্চল এবং নদী তীরবর্তী দীর্ঘ পথজুড়ে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে। তবে নদীগুলোতে তীব্র স্রোত এবং পাহাড়ি পথের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি উদ্ধারকাজকে চরম ব্যাহত ও বিপজ্জনক করে তুলেছে। সময় গড়াচ্ছের সাথে সাথে বিশ্বজুড়ে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের উৎকণ্ঠাও চড়মে পৌঁছাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট