হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ হিমবাহ ধসের ঝুঁকি

হিমালয় পর্বতমালায় হিমবাহ ধসের কারণে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। নেপালে সাম্প্রতিক হিমবাহ পতনে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১,০০০ অতিক্রম করার পরপরই এই সতর্কতা এলো।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব এবং ইউএনডিপির এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পরিচালক ক্যানি উইগনারাজা বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির পক্ষেও এসব নদীর বিশাল প্রবাহ আটকে ক্ষয়ক্ষতি থামানো সম্ভব নয়।

Nepal Flood 05
২০২০ সালে গবেষকরা নেপাল, চীন ও ভারতে ৪৭টি ঝুঁকিপূর্ণ হিমবাহ হ্রদ চিহ্নিত করেছিলেন, যা বর্তমানে আরও অনেক বেড়েছে। ইউএনডিপির তথ্যমতে, এই হ্রদগুলোর কারণে এশিয়ার লাখ লাখ মানুষের জীবন ও বসতি চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

গত সপ্তাহে নেপালের লাংটাং লিরুং পর্বতের কাছে হিমবাহের একাংশ ধসে উপত্যকায় পড়ে এবং প্রলয়ঙ্করি কাদা-বরফের স্রোত ত্রিশূলী নদী দিয়ে গড়িয়ে গিয়ে এই ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি করে।

Nepal Flood 04
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমালয় অঞ্চলে বরফ গলনের গতি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ফলে ভূগর্ভস্থ পাথর আলগা হয়ে যাচ্ছে এবং প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে ‘গ্লেসিয়ার লেক আউটবার্স্ট’ বা আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা বহু গুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া হিমালয় পর্বতমালার তরুণ ও অস্থির গঠন বৈচিত্র্যের কারণে টেকটোনিক প্লেটের স্থানান্তরের ফলেও যেকোনো সময় এমন ধস নামতে পারে।

বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে নেপাল পানি ও আয়ের জন্য হিমবাহের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। ফলে বর্তমান পরিস্থিতি দেশটিকে এক কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। ইউএনডিপির মতে, এই বন্যায় নেপালের ১৬টিরও বেশি নির্মাণাধীন ও চালু থাকা প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদনকে থমকে দিয়েছে।

Nepal Flood 03
জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা জানান, জলবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্যা সহনশীল করার প্রযুক্তি থাকলেও গত সপ্তাহের এই ‘কাদা ও বরফের সুনামি’ রোখার সাধ্য কোনো আধুনিক কাঠামোর ছিল না। নদীর তীরবর্তী এলাকার লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়লেও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে উঁচু এলাকায় স্থানান্তরও তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।