নেপালের ভোটে কোশী ও ত্রিশূলি নদীতে সৃষ্টি হওয়া বিধ্বংসী বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সাথে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪,২৪৭ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে সরকারের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে। সোমবার সকাল ৯টায় 'জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ' প্রকাশিত এক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। তবে, আকস্মিক বন্যায় চীনের তিব্বত সীমান্তে হতাহতের হিসাবে যোগ হলে নিহত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়বে।
দ্রুতগামী পাহাড়ি ঢলের তোড়ে বহু মানুষ এবং ধ্বংসাবশেষ নদী বেয়ে শত শত কিলোমিটার ভাটিতে ভেসে গেছে। ফলে মূল দুর্যোগস্থল থেকে অনেক দূরে মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত ৯০৩টি মরদেহের মধ্যে চিতওয়ান জেলায় সর্বোচ্চ ২৭২টি, নওয়ালপরাসী পূর্বে ২০৭টি এবং নওয়ালপরাসী পশ্চিমে ১৫১টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া নুয়াকোটে ৯৫, গোর্খায় ৬২, ধাদিংয়ে ৫৫, তানাহুন থেকে ৩৭ এবং রসুয়া থেকে ২৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে, নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। একা নুয়াকোট জেলাতেই ১,৫৫৮ জন এবং রসুয়ায় ৮৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৯৩৩ জন কর্মী, ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক ও পর্যটকদের সাথে থাকা ১২৭ জন নেপালি গাইড ও কর্মী এখনো নিখোঁজ। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে নেপালি সেনাবাহিনীর ৪৫ জন, নেপাল পুলিশের ২৫ জন এবং সশস্ত্র পুলিশ বলের ১৩ জন সহ মোট ৮৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
পাশাপাশি মকাওয়ানপুরে ৬৫ জন, ল্যাংটাং জাতীয় উদ্যানে ৩ জন, এবং ইমিগ্রেশন, কোয়ারেন্টাইন ও কাস্টমস অফিসে ২৩ জন কর্মীর কোনো খোঁজ মেলেনি।

উদ্ধার অভিযান ও চিকিৎসাসেবা: সরকারি তথ্যমতে, বন্যায় ২৬৭ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৫৬ জন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মারাত্মক এলাকাগুলোতে ৬টি বিশেষায়িত সার্জিক্যাল মেডিকেল টিম মোতায়েন করা হয়েছে।
উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করতে আক্রান্ত জেলাগুলোতে ২০,৮১৯ জন নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে নেপালি সেনাবাহিনীর ৮,৭২২ জন, নেপাল পুলিশের ৭,৮৯৪ জন এবং সশস্ত্র পুলিশ বলের ৪,২০৩ জন সদস্য দিনরাত কাজ করছেন। এখন পর্যন্ত মোট ১০,৪৫১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সেনাবাহিনীর পরিচালনাধীন ৪১১টি হেলিকপ্টার ফ্লাইটের মাধ্যমে ৩,৩৪৪ জন নেপালি এবং ২৫২ জন বিদেশি নাগরিককে আকাশপথে উদ্ধার করা হয়েছে।

মরদেহ সনাক্তকরণে সংকট: নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং মরদেহ সংরক্ষণ করা কর্তৃপক্ষের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন জেলার ২১টি হাসপাতালে অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহগুলো রাখা হয়েছে। শনাক্তকরণের সুবিধার্থে এনডিআরআরএমএ’র অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ এবং নেপাল পুলিশের দুর্যোগ সংক্রান্ত পোর্টালে মৃতদেহের তথ্য ও বিবরণ নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট
