চীন সীমান্ত সংলগ্ন রাসুওয়াগাধির ৮৪ কিলোমিটার দক্ষিণে গালছির 'জেহ্রে' জলবিদ্যুৎ সাবস্টেশনটি এখন গত ২৬ আগস্টের প্রলয়ঙ্করী বন্যার তাণ্ডবের এক ভয়াবহ সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়েছে। ত্রিশূলী নদীর কোল ঘেঁষে অবস্থিত এই কৌশলগত সাবস্টেশনটি আকস্মিক প্লাবনে সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে যায়, যার ধ্বংসাবশেষ নেপালের সামগ্রিক শক্তি খাতের ওপর এক বিশাল আঘাত হিসেবে দেখা দিয়েছে।
পাহাড় ধস ও পানির তোড়ে কাদা এবং পলির পুরু স্তরে ঢেকে গেছে সাবস্টেশনের পুরো প্রাঙ্গণ। নদীর তীরে দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে আছে বিশালাকার ট্রান্সফরমার ও বৈদ্যুতিক তারের স্তূপ।
নেপাল সেনাবাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক পরিশ্রম করে কাদা ও পলির নিচ থেকে সরঞ্জাম এবং ট্রান্সফরমার উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সাবস্টেশনের মূল ভবনের ভেতরের দেয়ালগুলোতে প্রায় ছাদ ছোঁয়া পানির কালো দাগ এখনও রটে দিচ্ছে সেদিনের ভয়াবহতার চিত্র।
সেদিন ডিউটিতে থাকা ইলেকট্রিশিয়ান রমেশ জানান, উঁচুপাহাড় থেকে বানের পানি ধেয়ে আসার খবর পাওয়া মাত্রই তারা প্রাণ বাঁচাতে পাহাড়ের ওপরের দিকে দৌড়াতে শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যেই স্বাভাবিক মাত্রা থেকে কয়েক ফুট উঁচুতে উঠে আসা পানি ও কাদার স্রোত পুরো পাওয়ার স্টেশনটিকে গিলে ফেলে।
গালছির এই সাবস্টেশনের ধ্বংসযজ্ঞ কেবল একক কোনো ঘটনা নয়, এটি নেপালের বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতের এক বিশাল সংকটের অংশ মাত্র। ২৬ আগস্টের পর থেকে বন্যা দুর্গত এলাকার বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে প্রায় ৯০০ কর্মী ও শ্রমিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আটকে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভারত ও চীনের বিশেষজ্ঞ দলগুলো নেপালি সেনাসদস্যদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ রপ্তানির ওপর ভরসা করা নেপালের জন্য জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতি সামলে ওঠা এক দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াল।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি