হিমালয় ধসের ফলে নেপালে ঘটে যাওয়া প্রলয়ঙ্করী আকস্মিক বন্যায় যেখানে ১,২৫০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ, সেখানে চরম সহনশীলতা ও বেঁচে থাকার এক মানবিক প্রতীক হয়ে উঠেছেন ৯১ বছরের বৃদ্ধা গুণা মায়া বোহারা।
কাদা ও পলিমাটিতে মাখামাখি অবস্থায় একটি জিসিবি এক্সকাভেটরের স্কুপে বসে উদ্ধার হওয়ার একটি চিত্র এখন পুরো নেপালের প্লাবিত জনপদের বেঁচে থাকার আশা জাগাচ্ছে।

নুয়াকোটের নদী তীরবর্তী শহর দেবীঘাটের ‘সিনিয়র সিটিজেন্স ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’ বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দা ছিলেন ৯১ বছরের গুণা মায়া। গত সপ্তাহে ভয়াবহ বন্যার পানি যখন কাদা ও পাথর নিয়ে শহরের দিকে ধেয়ে আসে, তখন প্রবীণ নিবাসটির সাতজন নিবাসী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও হাতে আঘাত থাকা সত্ত্বেও অলৌকিক মনোবল দেখিয়ে পানির ওপর নিজের মাথা তুলে রেখে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সংগ্রাম চালিয়ে যান গুণা মায়া বোহারা। ঘরের জানালা খুলে কাদার নিচে তলিয়ে যাওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করেন তিনি।

পরে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা এসে কাদার ভেতরে কেবল তাঁর মাথাটি ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান এবং এক্সকাভেটর দিয়ে তাঁকে জীবিত উদ্ধার করেন।
উদ্ধারের পর স্থানীয় এক আয়ুর্বেদিক হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুণা মায়াসহ বেঁচে যাওয়া সব নিবাসী প্রবীণকে হেলিকপ্টারে করে রাজধানী কাঠমান্ডুর একটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে।
এনডিটিভি কাঠমান্ডুর ওই কেন্দ্রে গিয়ে দেখতে পায়, জীবনের শেষপ্রান্তে এসে প্রবীণরা নতুন করে জীবন গুছিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। সেখানে তাঁদের জন্য অন্ন, বস্ত্র, নার্সিং সেবা ও সার্বিক চিকিৎসার সুব্যবস্থা করা হয়েছে। শারীরিক আঘাত সত্ত্বেও গুণা মায়াসহ উদ্ধার হওয়া প্রবীণদের স্বাস্থ্য বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে।

বৃদ্ধাশ্রমের এক প্রবীণ উদ্ধার পাওয়া মুহূর্তের ভয়াবহ স্মৃতিচারণ করে জানান, সকালের নাস্তার সময় হঠাৎ ঘরের ছাদ কাঁপতে শুরু করে। উঁচু স্থানে আশ্রয়ের জন্য ছুটলেও দুর্ভাগ্যবশত তাঁর বেশ কয়েকজন সঙ্গী কাদার তোড়ে প্রাণ হারান।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেপালে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,২৫২ জনে এবং নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৪,২১৬ জন। তিব্বত সীমান্তে চীনের অংশে আরও ৫৪১ জন নিখোঁজ থাকায় সার্বিক নিখোঁজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪,৭৫৭ জনে।
এই বিশাল ধ্বংসস্তূপের মাঝেও নেপালি সেনাবাহিনী এবং আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো ভারী সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে অবিরাম অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
