দিল্লিতে ভবন ধসে নিহত বেড়ে তিন, ধ্বংসস্তূপে আটকে বহু

ভারতের রাজধানীর নয়াদিল্লির দক্ষিণ ক্যাম্পাসের কাছেই অবস্থিত সত্য নিকেতন এলাকায় বহুতল হোস্টেল ভবন ধসের ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে তিন জনে দাঁড়িয়েছে। অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আটকা পড়েছেন অনেকে শিক্ষার্থী।

জয় প্রকাশ নারায়ণ অ্যাপেক্স ট্রমা সেন্টারে আনা আক্রান্তদের মধ্যে একজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়, দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর এক উদ্ধারকর্মীকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আজাদ বংশাল নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন ‘হোস্টেল ডেজ’ নামের পাঁচতলা ভবনটির বেসমেন্ট খুঁড়ে অনিয়ন্ত্রিত সংস্কার কাজ চালানোর কারণেই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা।

Delhi Building 04
রোববার দুপুর ১টা ৩৪ মিনিটে নানকপুরা গুরুদ্বারের কাছে এই ভয়াবহ ধসের ঘটনা ঘটে, যার ধাক্কায় পাশে পার্ক করে রাখা একাধিক যানবাহন মুহূর্তেই চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, এনডিআরএফ, দিল্লি পুলিশ, এনসিডি, ডিডিএমএ এবং ক্যাটস অ্যাম্বুলেন্সের অন্তত ৮টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় যৌথ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির ডিসিপি অমিত গোয়েল জানিয়েছেন, এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে ঠিক কতজন চাপা পড়ে আছেন তার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বলা কঠিন হলেও, ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে স্ল্যাব সরিয়ে নিখোঁজদের উদ্ধারে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন শত শত কর্মী।

Delhi Building 03
ঘটনার ভয়াবহতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বের করে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সহায়তা দেয়াই এই মুহূর্তে রাজ্য সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সুরক্ষার স্বার্থে ধসে পড়া ভবনের সংলগ্ন অন্যান্য বাড়িগুলোকেও ইতোমধ্যে খালি করে নেয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সবকটি সরকারি সংস্থা পূর্ণ সমন্বয়ের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

Delhi Building 02
অন্যদিকে এই ঘটনাকে ঘিরে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতেও বইছে তীব্র উত্তাপ। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসা সুনিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, কংগ্রেস ও এনএসইউআই সমর্থকরা ইতোমধ্যেই দুর্ঘটনাস্থলে সহায়তার জন্য উপস্থিত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীরা কীভাবে ঠাসাঠাসি করে ঝুঁকিপূর্ণ পিজিতে বসবাস করতে বাধ্য হন, তা নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২২ সালেও সত্য নিকেতন এলাকায় ঠিক একইভাবে সংস্কার কাজ চলাকালীন তিনতলা বাড়ি ধসে পড়ে দুই শ্রমিকের করুণ মৃত্যু হয়েছিল। বারবার এমন মর্মান্তিক পুনরাবৃত্তি দিল্লির নগর পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম খামখেয়ালিপনাকেই পুনরায় আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এনডিটিভি