ভারতের নয়াদিল্লির দক্ষিণ ক্যাম্পাসের কাছে সত্য নিকেতন এলাকায় একটি পাঁচতলা বেসরকারি ‘পেয়িং গেস্ট’ হোস্টেল ধসে পড়ার ঘটনায় রাজধানী জুড়ে তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। ‘হোস্টেল ডেজ’ নামের ওই ভবনটি ধসে অন্তত একজনের করুণ মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর একাধিক দল উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
এই মর্মান্তিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি নিশানা করেছেন 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও ছাত্রনেতা অভিজিৎ দীপকে।
রোববার দুপুর ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ দিল্লির সাউথ ক্যাম্পাসের ব্যস্ত ছাত্রকোটর সত্য নিকেতনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুপুর ১টা ৩৪ মিনিট নাগাদ নর্থ ক্যাম্পাসের বাইরের নানকপুরা গুরুদ্বারের কাছে এই ধ্বংসলীলার বিষয়ে প্রথম পিসিআর কল পায় পুলিশ।

এইমস সূত্রের খবর, দুর্ঘটনাস্থল থেকে ৪ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে একজনকে মৃত ঘোষণা করা হয় এবং দুজনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। একজন উদ্ধারকারী সদস্যও আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ধসে পড়ার সময় ভবনটির বেসমেন্টে বেআইনি বা অপরিকল্পিত খনন ও সংস্কার কাজ চলছিল, যার ফলে বিশ বছর পুরনো মূল কাঠামোটির সাপোর্ট অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে। সরু গলির ভেতরে হোস্টেলটি অবস্থিত হওয়ায় ফায়ার ব্রিগেড ও ভারী এনডিআরএফ সরঞ্জামের দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে চরম বেগ পেতে হয়েছে।
এই বিপর্যয়ের পর দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষার্থী নিরাপত্তা নিয়ে সরব হয়েছে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক টিচার্স ফ্রন্ট, এবিভিপি, এনএসইউআই এবং এসএফআই। সংগঠনগুলি দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় দ্রুত উদ্ধারকার্য সম্পাদন এবং অনিয়মের সাথে যুক্ত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে।
একই সঙ্গে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সব ব্যক্তিগত পিজি এবং হোস্টেলগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, ভবনের শারীরিক কাঠামোগত নিরাপত্তা, অতিরিক্ত জনসংখ্যা এবং বায়ু চলাচলের সার্বিক পরীক্ষার জোর দাবি তোলা হয়েছে।

ভবন ধসের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে একহাত নেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। ঘটনার আগের দিনই দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফরের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি লেখেন-
‘এই দেশে ভেঙে পড়া অবকাঠামো আর অবহেলার মাশুল কতদিন শিক্ষার্থীদের গুনে যেতে হবে? প্রত্যন্ত আদিবাসী অঞ্চলের পর এবার দেশের রাজধানীতেও শিক্ষার্থীরা নিরাপদ নয়। শিক্ষার্থীরা কি অন্তত একটি নিরাপদ শ্রেণিকক্ষ, একটি সুরক্ষিত হোস্টেল ও মৌলিক সম্মান পাওয়ার যোগ্য নয়? প্রধানমন্ত্রী কি আবারও ডিইউতে এসে বলবেন এবং ব্যাখ্যা দেবেন যে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা কীভাবে ঘটল?’
অভিজিৎ দীপকের এই প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক হলেও তা গোটা দিল্লির বেসরকারি পিজি ব্যবস্থার ভয়াবহ বাস্তবতাকে পুনরায় সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে। তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে যে, বেসমেন্টের অনিয়ন্ত্রিত কাজ এবং প্রশাসনের তদারকির অভাবই মূলত এই মর্মান্তিক ধ্বংসলীলার জন্য দায়ী কি না।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান টাইমস
