ভারতের রাজধানীর দক্ষিণ দিল্লির সাউথ ক্যাম্পাসের অন্যতম ব্যস্ত আবাসিক এলাকা সত্য নিকেতনে একটি পাঁচতলা ছেলেদের হোস্টেল (পেয়িং গেস্ট) ভবন ধসে পড়ে এক মর্মান্তিক বিপর্যয় ঘটেছে। ‘হোস্টেল ডেজ’ নামের এই পাঁচতলা ভবনটিতে মূলত দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা বসবাস করতেন।
রোববার দুপুর ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ এই আকস্মিক দুর্ঘটনাটি ঘটে, যেখানে বহু শিক্ষার্থী ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। খবর পেয়েই জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনী, দিল্লি ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং দিল্লি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের একাধিক বিশেষ উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পূর্ণ শক্তিতে তল্লাশি ও উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। এছাড়াও স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরাও উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছেন।
প্রাথমিক তদন্ত এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, এই ভয়াবহ ভবন ধসের পেছনে মূল কারণ হিসেবে ভবনটির বেসমেন্টে চলা ঝুঁকিপূর্ণ অনিয়ন্ত্রিত সংস্কার ও খনন কাজকেই দায়ী করা হচ্ছে।
- বেসমেন্ট খনন ও দুর্বল ভিত: প্রায় ৪০-৫০ বছরের পুরনো এই ভবনটির বেসমেন্টে নতুন করে সংস্কার ও খনন কাজ চালানো হচ্ছিল। কোনো মজবুত পিলার ছাড়াই নির্মিত পুরনো কাঠামোর নিচে মাটি ও বেসমেন্ট খনন করায় পুরো ভবনের নিচতলার মূল ভিত্তি ও সাপোর্ট দুর্বল হয়ে পড়ে।
- বৃষ্টির পানি ও জলাবদ্ধতা: সম্প্রতি হওয়া বৃষ্টির কারণে খোলা বেসমেন্টে প্রচুর পানি জমে যায়, যা ভবনটির আগে থেকেই দুর্বল থাকা ভিতকে আরও নরম ও ভঙ্গুর করে তোলে।
- প্রচণ্ড ভূমিকম্পের মতো ঝাঁকুনি: প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভবনটি ধসে পড়ার ঠিক আগে ভূমিকম্পের মতো প্রচণ্ড বিকট শব্দ ও ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই পাঁচতলা পুরো ভবনটি ধুলোয় ঢেকে মাটির সাথে মিশে যায় এবং এর প্রভাবে পাশে থাকা আরেকটি ভবনও কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুর্ঘটনার পর পরই ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে নিকটস্থ এইমস ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আটকে থাকা শিক্ষার্থীদের বাঁচানোর আকুল কান্না ও মোবাইলে সহায়তার আবেদন শুনতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও এনডিআরএফ-এর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে হাত লাগান।
ঘটনাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে দিল্লি পুলিশ ভবনটির গুরুগ্রামভিত্তিক মালিক আনন্দ বংশালের (আজাদ বংশাল) বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির গুরুতর ধারায় এফআইআর দায়ের করেছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের জন্য বিশেষ পুলিশ দল গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং পার্শ্ববর্তী ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোকেও খালি করে নেওয়া হয়েছে।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-দ্য উইক