ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় ৫০ বছর পুরোনো একটি পাঁচতলা ভবন ধসে পড়ার মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাত জনে দাঁড়িয়েছে। এই ঘটনায় আরও সাত জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানান, প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী ভবনের বেসমেন্টে জমা পানি এবং পুরোনো জরাজীর্ণ কাঠামোতে অপরিকল্পিত সংস্কার ও মেরামতের কাজই এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের মূল কারণ।
ঘটনাস্থলে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ দ্রুত গতিতে চালাচ্ছে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী। ইতিমধ্যেই শতকরা ৮০ ভাগ ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে এবং শুধু বেসমেন্টের অংশটুকু বাকি রয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বেসমেন্টে বিপজ্জনকভাবে পানি জমে থাকা সত্ত্বেও ভবনের স্তম্ভে সংস্কার কাজ চালানো হচ্ছিল। কাজের এক পর্যায়ে একটি মূল পিলার বা স্তম্ভ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধসে পড়লে পুরো পুরোনো ভবনটি মুহূর্তের মধ্যে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা একাধিক কঠোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন-
- মালিক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা: ভবনের মালিকের বিরুদ্ধে অবিলম্বে মামলা দায়ের করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অব দিল্লির যেসব কর্মকর্তার গাফিলতি রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
- পঞ্চম তলা সিলকরণ ও স্ট্রাকচারাল অডিট: দিল্লির ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যেসব ভবনে বেআইনিভাবে পঞ্চম তলা তৈরি করা হয়েছে, সেগুলো অবিলম্বে সিল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আশেপাশের সব ‘পেয়িং গেস্ট’ বা পিজি ও শিক্ষার্থী হোস্টেলগুলোর সুনির্দিষ্ট 'স্ট্রাকচারাল অডিট' করা হবে।
- শিক্ষার্থীদের সহায়তা: ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত দিল্লি সরকারের মন্ত্রী মঞ্জিন্দর সিং সিরসা জানান, দুর্ঘটনাকবলিত ভবনের ঠিক পেছনেই থাকা আরেকটি ৪০-৫০ বছরের পুরোনো জরাজীর্ণ ভবন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। উদ্ধারকাজে বিঘ্ন না ঘটিয়ে এবং কোনো নতুন দুর্ঘটনা না ঘটিয়ে ভবনটি ধ্বংস করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এদিকে, মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অব দিল্লি দিল্লির পৌর আইন অনুযায়ী সত্য নিকেতনের ১৩ নম্বর হোল্ডিংয়ের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ডিমোলিশন বা ভবন ভাঙার নোটিশ জারি করেছে। ভবন মালিককে তিন দিনের মধ্যে নিজ খরচে বিপজ্জনক অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, অন্যথায় প্রশাসন নিজ দায়িত্বে তা ভেঙে খরচ আদায় করবে।
জরুরি উদ্ধার অভিযান ও ভারী যন্ত্রপাতি চলাচলের সুবিধার্থে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ পথ নির্দেশিকা বা 'অ্যাডভাইজরি' জারি করা হয়েছে। সাফদারজং হাসপাতাল, ধৌলা কুয়াঁ, আরটিআর মার্গ এবং বেনিটো জুয়ারেজ মার্গ সংলগ্ন রাস্তায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে ভিড় না করতে এবং জরুরি অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের জন্য বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি