ধুলোর ধোঁয়াশায় আচ্ছন্ন চারপাশ, ভাঙা কংক্রিটের নিচে চাপা পড়ে থাকা তরুণদের জীবন বাঁচানোর আকুল চেষ্টা এবং জানালা দিয়ে দৃশ্যটি দেখে এক নারীর হৃদয়বিদারক চিৎকার, দিল্লির সত্য নিকেতনের ‘হোস্টেল ডেজ’ ভবন ধসের হৃদয়বিদারক এই ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
দুর্ঘটনাস্থলের ঠিক বিপরীত দিকের একটি বাড়ির জানালা থেকে ধারণ করা এই ফুটেজে দেখা যায়, এক নারী প্রতিবেশি চরম অসহায়ত্বে হাউমাউ করে কেঁদে উঠে বলছেন, কতগুলো বাচ্চা ভেতরে আটকে আছে... হে ভগবান! আমরা কোথায় বসবাস করছি? বাঁচাও ওদের, কেউ ওদের বাঁচাও...।
রোববার দুপুরের এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭ জনে দাঁড়িয়েছে। টানা ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা উদ্ধার অভিযানে এ পর্যন্ত ১২ জনকে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে যাওয়া তরুণেরা এখনো ট্রমার মধ্যে রয়েছেন।
এই ভয়াবহ বিপর্যয় এবং প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগে সোমবার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে দিল্লি পৌরসংস্থা। সাউথ জোনের ডেপুটি কমিশনার রাকেশ কুমারসহ ৫ জন শীর্ষ কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া অন্য চার কর্মকর্তা হলেন সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার রণবীর সিং, এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার (বিল্ডিং) ললিত কুমার গোয়েল, অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সুনীল চৌহান এবং জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার আশিস কুমার।
এমসিডি কমিশনার সঞ্জীব খিরওয়ার নিশ্চিত করেছেন, ধসে পড়া ভবনটির সংলগ্ন অন্য কাঠামোটিও মারাত্মকভাবে দুর্বল ও বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। সারারাত ধরে সেটিকে সাময়িকভাবে জোরদার করা হলেও আগামী এক বা দুদিনের মধ্যে পদ্ধতিগতভাবে ভবনটি ভেঙে ফেলা হবে।
তদন্তে জানা গেছে, ১৯৭০ সালে নির্মিত এই চারতলা ভবনটিতে একটি বেসমেন্ট ছিল। দীর্ঘকাল পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকার পর ভবনটির মালিক হরি রাম বংশাল সম্প্রতি এতে সংস্কার কাজ শুরু করেন এবং আগস্ট মাসেই 'হোস্টেল ডেজ' নামে ছেলেদের এই নতুন পিজি চালু করেন। তবে ভেতরে মূল কাঠামোর কাজ তখনও অসম্পূর্ণ ছিল।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সংস্কার কাজ চলাকালে বেসমেন্টের একটি মূল সাপোর্ট পিলার বা স্তম্ভ নড়বড়ে হয়ে যায়। একই সাথে বেসমেন্টে বিপজ্জনকভাবে জমে থাকা পানি পুরো কাঠামোর ভিত্তিকে একবারে ধসিয়ে দেয়। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাও এই বিষয়টিকে দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে চিহ্নিত করেছেন। ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া ভবন মালিক হরি রাম বংশালকে রাজস্থানের ভিওয়াড়ি থেকে পুলিশ ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি