সন্ধ্যায় মোদী-শি বৈঠকে গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব বিষয়

নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে শনিবার সন্ধ্যায় বহুল প্রতিক্ষীত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের ভঙ্গুর কূটনৈতিক সম্পর্কে যে স্থায়িত্ব এসেছে, এই বৈঠকের মাধ্যমে সেটিকে আরও সুসংহত করার চেষ্টা করা হবে। কৌশলগত অর্থনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি এই বৈঠকের মূল আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে দুই দেশের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা সংলগ্ন সীমানা সংঘাত।

বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় বৈঠকটি হবার কথা রয়েছে। বৈভারতের স্পষ্ট অবস্থান হলো, সীমান্তের শান্তি ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত না করে সার্বিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে চীন চায় সীমান্ত সমস্যাকে সার্বিক সম্পর্কের বাইরে রেখে পৃথকভাবে সমাধান করতে। গত জুলাই মাসে অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার তাকসিং অঞ্চলে পুনরায় তৈরি হওয়া উত্তেজনা এবং পরবর্তী কোর কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠকের বিষয়টি দুই নেতার উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় উঠে আসতে পারে।

বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে যেসব প্রধান নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক উদ্বেগের বিষয় তুলে ধরা হবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে অরুণাচল প্রদেশকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে নয়াদিল্লি স্মরণ করিয়ে দেবে। সম্প্রতি চীনের পক্ষ থেকে ওই অঞ্চলের ২৭টি স্থানের নাম পরিবর্তনের যে একতরফা চেষ্টা চালানো হয়েছে, তা নিয়ে ভারতের আপত্তির বিষয়টি আলোচনায় স্থান পাবে।

তিব্বতের এয়ারলুং সাংপো (ব্রহ্মপুত্র) নদীর উজানে চীনের পরিকল্পিত ১৩৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের সুবিশাল জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে ভারত গুরুতর উদ্বিগ্ন। নদী অববাহিকার নিচের দিকের অঞ্চলগুলোতে এর সম্ভাব্য বিরূপ প্রভাব কাটাতে চীনকে তথ্যের স্বচ্ছতা বজায় রাখার দাবি জানাবে ভারত।

সীমান্ত এলাকায় যে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে এবং স্থায়ী স্থায়িত্ব আনয়ন করতে নতুন সামরিক ও কূটনৈতিক ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির আলোচনা হবে। সীমান্তের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে বাণিজ্য ঘাটতি ও কঠোর বিনিয়োগ নীতি।

ভারতের বাজারে চীনের প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির অবাধ প্রবেশ থাকলেও ভারতীয় পণ্যের চিনা বাজারে প্রবেশে জটিলতা রয়েছে। এই ঘাটতি দূর করতে ভারতীয় শিল্প খাতের পক্ষ থেকে চীন থেকে প্রয়োজনীয় মূলধনী যন্ত্রপাতি সরবরাহে বাধা না দেওয়ার দাবি জানানো হতে পারে।

পাশাপাশি ভারতীয় ব্যবসায়ীদের জন্য চীনের ভিসা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং ভারতে চিনা বিনিয়োগ নীতি আরও সহনশীল করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ইলেকট্রনিক্স ও সৌর শক্তির মতো খাতে কিছুটা ছাড় দিলেও চিনা বিনিয়োগের অনুমোদন প্রক্রিয়া এখনও বেশ জটিল।

সন্ধ্যার এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য কেবল সাময়িক দূরত্ব দূর করা নয়, বরং দুই দেশের মতপার্থক্যগুলো মেটানোর জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই স্থায়ী কাঠামো প্রস্তুত করা।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স