পাকিস্তানের অশান্ত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাটে পুলিশ লাইন্স চত্বরে জুমার নামাজ চলার সময় এক ভয়াবহ আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলা ও বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও ৬ জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৮০ জন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
শুক্রবার দুপুরে প্রার্থনার উদ্দেশ্যে যখন পুলিশ লাইন্সের ভেতরের মসজিদে মুসল্লি ও পুলিশ সদস্যরা সমবেত হন, ঠিক তখনই একটি বিস্ফোরক ভর্তি গাড়ি প্রচণ্ড গতিতে এসে মসজিদের সীমানা প্রাচীরে ধাক্কা খেয়ে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের প্রচণ্ডতায় মসজিদের মূল ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বাইরের দেয়াল ধসে পড়ে।
বিস্ফোরণের রেশ কাটতে না কাটতেই প্রায় সাতজন সশস্ত্র জঙ্গি ধ্বংসস্তূপ পার হয়ে সিটিডি ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের ভবনের দিকে অন্ধের মতো গুলি চালাতে চালাতে প্রবেশ করে। এতে পরিস্থিতি আরও ভয়ানক রূপ নেয়। ডিস্ট্রিক্ট হেলথ অফিসার ডা. নাছির হাসান আফ্রিদি নিশ্চিত করেছেন, নিহতদের মধ্যে ট্রাফিক পুলিশের এসপি আকবর শিনওয়ারি এবং কেডিএ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. ইসরাইল ওরাকজাই রয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়েই কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্টের অ্যাডিশনাল আইজি নিজে অস্ত্র হাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযানের নেতৃত্ব দেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দীর্ঘ পাল্টা গুলিবর্ষণে আত্মঘাতীসহ ছয় জন সন্ত্রাসী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। পরবর্তীতে কোণঠাসা হয়ে পড়া বাকি জঙ্গিদের নিশ্চিহ্ন করতে পুরো চত্বরে সাঁড়াশি 'ক্লিয়ারেন্স অপারেশন' চালানো হয়।
পাকিস্তানের নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) হাফিজ গুল বাহাদুর অনুগত দল ‘ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন’এই বর্বরোচিত হামলার দায় স্বীকার করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সীমান্তপারের আশ্রয়স্থল ও পরিকল্পনা ছাড়া পুলিশ সদর দপ্তরের মতো সুরক্ষিত এলাকায় এত বড় হামলা চালানো সম্ভব ছিল না।
হামলার পরপরই দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি গভীর শোক প্রকাশ করে উগ্রবাদ নির্মূলে সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এই প্রদেশটি পাকিস্তানের প্রথম সারির ঢাল হিসেবে কাজ করছে এবং অতীতে তারা ৮০ হাজারের বেশি প্রাণ উৎসর্গ করেছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। পাকিস্তানে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার এবং রুশ দূতাবাস পৃথক বিবৃতিতে প্রার্থনাস্থলে এমন কাপুরুষোচিত হামলার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত আহতদের সুস্থতা কামনা করেছেন।
তথ্যসূত্র: দ্য ডন-আল জাজিরা