ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের ঠিক মুখেই নাটকীয় রাজনৈতিক মোড়! সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার হলেন কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী মিলন প্রধান। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম জমি অধিগ্রহণবিরোধী আন্দোলনের সময়কার ১৯ বছরের পুরনো এক হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শুক্রবার কালীঘাটের নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘ইন্ডিয়া’ জোটকে শক্তিশালী করতে এবং বিজেপিকে পরাস্ত করতে তাঁর গোষ্ঠী নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন দেবে।
এর আগে মমতার তৃণমূল কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের পর তাঁর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসকে ‘বোন দল’ বা ‘সোদর দল’ হিসেবে বর্ণনা করে এই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেন।
তবে সাবেক পিসিসির জ্যেষ্ঠ নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী স্পষ্ট জানান, তাঁরা মমতার কাছে কোনো সমর্থন চাননি; মমতা নিজেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মিলন প্রধানের গ্রেপ্তারের পরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিরোধী শিবির। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এই গ্রেপ্তারকে সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও গণতন্ত্রের হত্যা বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা কেসি বেণুগোপাল অভিযোগ করেন, বিজেপি একটি পুরনো নিস্তেজ মামলা ব্যবহার করে বিরোধীমুক্ত ভারতের চক্রান্ত বাস্তবায়ন করতে চাইছে।
তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষও এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে প্রশ্ন তোলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমর্থন জানানোর কয়েক মিনিটের মধ্যে এমন গ্রেপ্তার কেন? শাসকদলের মধ্যে কিসের এত ভয় ও আত্মবিশ্বাসের অভাব?
নন্দীগ্রামের এই রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেই তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় মালিকানা ও প্রতীক নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের জন্য মূল 'সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস' নাম এবং জোড়াফুল প্রতীকটি সাময়িকভাবে ফ্রিজ বা স্থগিত করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীকে 'মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস' নাম ও ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীক এবং অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীকে ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও খামের প্রতীক বরাদ্দ করেছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি