নেতা অপহরণ: পাকিস্তানে গৃহযুদ্ধের হুমকি দিলো পিটিআই

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) অভিযোগ করেছে, পরিকল্পিত মহাসমাবেশকে সামনে রেখে শেহবাজ শরিফ সরকার ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের নেতৃত্বাধীন সামরিক বাহিনী জোরপূর্বক কর্তৃত্ব বজায় রাখতে দলটির একের পর এক নেতাকে বন্দুকের মুখে অপহরণ করছে।

আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে পিটিআই। তবে এই কর্মসূচির আগেই লাহোর পুলিশ ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানের তিন বোন আলিমা খান, নুরিন নিয়াজি ও ড. উজমা খানসহ তাঁদের সন্তানদের আটক করেছে। এর মধ্যেই খাইবার পাখতুনখোয়ায় পিটিআই নেতাদের ওপর এই ধারাবাহিক হামলা ও অপহরণের ঘটনায় প্রদেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

খাইবার পাখতুনখোয়া প্রাদেশিক পরিষদের স্পিকার বাবর সলিম সোয়াতি এক আলোচনা সভায় জানান, পেশোয়ারের মহাসড়ক থেকে মুখোশ পড়া সশস্ত্র ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল মন্ত্রী ফজল শাকুর খানকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। পাশাপাশি মালাকান্ডে আরেক সাবেক প্রাদেশিক মন্ত্রী শাকিল খানের ওপর হামলা ও অপহরণের চেষ্টা ব্যর্থ করা হয়েছে।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা যায়, মুখাচ্ছাদিত ব্যক্তিরা প্রধান মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে মন্ত্রীর গাড়ির টায়ারে গুলি চালিয়ে তাঁকে থামায় এবং জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। স্পিকার সোয়াতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রকাশ্যে মুখোশধারীরা গুলি চালিয়ে মানুষকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে অথচ পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো কার্যত 'এজেন্সিগুলোর বি-টিম' হিসেবে কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই ভূমিকায় পুরো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন উঠে এসেছে।

২৭ সেপ্টেম্বরের ঘোষিত এই গণমার্চ রুখতে পাকিস্তানজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে সরকার। রাজধানী ইসলামাবাদের প্রধান হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য মানবিক সংকট ও ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা সামাল দিতে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর ফলে হাসপাতালগুলোতে পূর্বে নির্ধারিত অস্ত্রোপচারগুলো স্থগিত করা হচ্ছে, যা রক্তক্ষয়ী দমনপীড়নের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। এসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ২৫ সেপ্টেম্বর আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা ঘোষণা করা হবে এবং কোনো অবস্থাতেই এই প্রতিবাদ থামবে না। তবে তিনি আশঙ্কাজনিত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পিটিআই শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে নিজেদের দাবি আদায় করতে চায়; কিন্তু আন্দোলনের ওপর রাষ্ট্রীয় বাহিনীর কোনো ধরনের গুলিবর্ষণ পরিস্থিতিকে অনিবার্যভাবে এক সর্বনাশা ‘গৃহযুদ্ধের’ দিকে ঠেলে দিতে পারে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি