পাকিস্তানের অশান্ত বেলুচিস্তান প্রদেশে সামরিক বাহিনীর গাড়িবহরে এক রক্তক্ষয়ী হামলা চালিয়ে নজির সৃষ্টি করেছে বালোচ বিদ্রোহীদের নতুন গঠিত প্রথম সশস্ত্র নারী ব্রিগেড। বালোচ লিবারেশন ফ্রন্টের নবগঠিত নারী স্কোয়াড 'করিমা আর্মড অ্যাসাল্ট ডিভিশন'-এর এই প্রথম প্রত্যক্ষ অভিযানে অন্তত ৯ জন পাকিস্তানি সেনা সদস্য নিহত হয়েছে বলে গোষ্ঠীটি দাবি করেছে।
গত ২২ সেপ্টেম্বর চীনা-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর হাইওয়েতে তুর্বাত অঞ্চলে পাকিস্তানি সেনার কুইক রেসপন্স ফোর্সের একটি সাঁজোয়া যানসহ তিনটি গাড়ির বহরে অত্যন্ত কাছ থেকে এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
সম্প্রতি প্রকাশিত অভিযানের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, এক নারী কমান্ডারের নেতৃত্বে মাত্র পাঁচ ধাপ দূরত্ব থেকে ভারী রাইফেল দিয়ে সেনাবহরে তোপ দাগায় নারী বিদ্রোহীরা, যা তাদের উচ্চতর সামরিক প্রশিক্ষণের স্বাক্ষর বহন করে। বিএলএফ-এর মুখপাত্র মেজর গওহরাম বালোচ এক বিবৃতিতে জানান, এই হামলায় পাক বাহিনীর একাধিক যানবাহন দুমড়ে-মুচড়ে গেছে।
অভিযানে বিএলএফ’র 'কুরবান ইউনিট' নারী ব্রিগেডকে নিরাপত্তা কভার প্রদান করে এবং পাকিস্তানি বাহিনীর ঘেরাও ভেদ করে তাদের নিরাপদে পিছু হটতে সাহায্য করে। তবে সংঘর্ষ চলাকালে কুরবান ইউনিটের যোদ্ধা চাকার মুরাদ ওরফে দিলীপ জান নিহত হন।
উক্ত নারী ব্রিগেডটির নামকরণ করা হয়েছে বলুচিস্তানের খ্যাতনামা নারী অধিকারকর্মী করিমা বালোচের নামে, যিনি ২০২০ সালে কানাডায় রহস্যজনকভাবে নিহত হয়েছিলেন।
একই সময়ে বেলুচিস্তানের ডেরা বুগটি অঞ্চলে মারি এনার্জিস লিমিটেডের একটি গ্যাস ও জ্বালানি সাইটে রকেট ও ভারী অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে 'বালোচ রিপাবলিকান আর্মি'। এই হামলায় ৩ জন কর্মচারী নিহত হওয়ার পাশাপাশি পাকিস্তানি সেনা ও স্থানীয় সরকারি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাথে প্রচণ্ড বন্দুকযুদ্ধে ৯ জন সেনা ও ৩ জন সশস্ত্র সদস্য নিহত হয়।
বিআরএ-র মুখপাত্র সরবাজ বালোচ জানান, লড়াইয়ে তাদেরও ৬ জন যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া 'বালোচ রিপাবলিকান গার্ডস' হাজি শহর দখল করে একটি পুলিশ স্টেশন উড়িয়ে দেয়া এবং এরি শহর এলাকার সরকারি দপ্তরগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে।
পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর বালোচ বিদ্রোহীদের পর পর এসব প্রাণঘাতী হামলা ও সরকারি পরিকাঠামো ধ্বংসের ঘটনা পুরো অঞ্চলজুড়ে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি