দিল্লিতে রাহুলের নেতৃত্বে রাজঘাটে বিরোধীদের মৌন প্রতিবাদ!

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের তৃতীয় দিনে নজিরবিহীন শান্ত ও সুশৃঙ্খল উপায়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডিয়া’ জোট।

এর আগের দিন বুধবার দিল্লি পুলিশের হাতে নাটকীয়ভাবে আটক ও মামলার শিকার হলেও, বৃহস্পতিবার দিল্লির রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর স্মারকস্থলে নিরব ও মৌন প্রতিবাদ কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলনের ঝাঁজ বজায় রাখেন বিরোধী আইনপ্রণেতারা।

Delhi Protest 06
বৃহস্পতিবার বিকেলের কর্মসূচির ধরণটি ছিল বুধবারের মতোই পরিকল্পিত। বিরোধী সংসদ সদস্য প্রথমে মধ্য দিল্লির কনট প্লেসের বিখ্যাত ‘মোয়েটস’ রেস্তোরাঁয় প্রাক-বিক্ষোভ মধ্যাহ্নভোজের জন্য একত্রিত হন। সেখান থেকে তিনটি বিশেষ বাসে চড়ে তারা যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত রাজঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এর আগের দিনও জানপথের ‘সাগর রত্না’ রেস্তোরাঁয় যৌথ লাঞ্চ শেষে সাড়ে চার কিলোমিটার দূরের প্রতিবাদস্থলে বাসে চেপে রওয়ানা দিয়েছিলেন এমপিরা।

তবে বুধবারের আন্দোলনের মতো বৃহস্পতিবার রাজপথে পুলিশের সঙ্গে কোনো ধস্তাধস্তি বা উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। বুধবারে দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তর অভিমুখে যাওয়া বিরোধী এমপিদের বাস ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেওয়ার পর রাজপথে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল।

ক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকরা রাস্তায় নেমে এলে পুলিশ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রা ও রাহুল গান্ধীসহ শীর্ষ নেতাদের জোরপূর্বক আটক করে নিয়ে যায় এবং তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

Delhi Protest 03
সে তুলনায় বৃহস্পতিবারের পরিবেশ ছিল শান্ত ও নিয়ন্ত্রিত। রাজঘাটে পৌঁছে বিরোধী এমপিরা লাইন ধরে নেমে মহাত্মা গান্ধীর স্মারক সংলগ্ন সবুজ ঘাসের ওপর নীরব প্রতিবাদে বসে যান। কয়েক ঘণ্টা ধরে শান্তিপূর্ণ অবস্থান শেষে পুলিশের কোনো বাধা ছাড়াই তাঁরা পুনরায় বাসে চেপে স্থান ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য, শুধু দিল্লিতেই নয়, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন এখন অন্যান্য রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। বেঙ্গালুরু ও মুম্বাইয়ে অভিজিৎ দিপকে প্রতিষ্ঠিত ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’(সিজেপি)-র নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বেঙ্গালুরুতে কমিশন কার্যালয়ের সামনে সিইসি’র উদ্দেশ্যে 'এরর ৪০৪' কিংবা 'জ্ঞানেশ, ইটস্ ডান ব্রো' জাতীয় ব্যাঙ্গাত্মক স্লোগান নিয়ে রাস্তায় নামেন প্রতিবাদকারীরা।

নির্বাচন কমিশনের ভেতরে তৈরি হওয়া অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ থেকেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত। এক শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে আসে, ভোটার তালিকা পুনঃযাচাইকরণ বা স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অপর দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সান্ধু এবং বিবেক জোশী একাধিক আপত্তি তুলেছিলেন।

Bengaluru Protest 02
বিশেষ করে ভোটার তালিকা ডেটাবেস 'ইসিআইনেট'-এর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ এবং 'ফর্ম ৬'-এ নিয়মবহির্ভূত বা বেআইনি পরিবর্তনের বিষয়ে তাঁরা তীব্র আপত্তি জানান। পরবর্তীকালে কমিশনের পক্ষ থেকে ফর্ম ৬-এর সেই বিতর্কিত পরিবর্তনগুলো প্রত্যাহার করা হয় এবং বাদ পড়া ভোটারদের পুনরায় নিবন্ধনের জন্য বিশেষ অভিযান ঘোষণা করা হয়।

বুধবার পুলিশি ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়ার সময় রাহুল গান্ধী গণমাধ্যমকে জানান, সিইসি জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এই লড়াই থামবে না। তিনি দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন, দেশের সবচেয়ে পবিত্র গণতান্ত্রিক কাঠামোকে রক্ষা করতেই আমাদের এই সংগ্রাম। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কোনো পদক্ষেপই আমাদের রাজপথ থেকে সরাতে পারবে না।

বৃহস্পতিবারের নীরব প্রতিবাদের মাধ্যমে বিরোধী দলগুলো স্পষ্ট করে দিলো, দিল্লি পুলিশের কোনো কঠোর পদক্ষেপই তাঁদের এই আন্দোলনকে দমিয়ে রাখতে পারছে না।

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এনডিটিভি