ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত ‘যন্তর মন্তর ২.০’ বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তরুণ আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি ধরপাকড় ও আটকের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশটির লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, ১০ হাজার, ২০ হাজার বা ৫০ হাজার যত পুলিশই মোতায়েন করা হোক না কেন, ভারতের তরুণ সমাজ ও বিরোধীরা তাদের ন্যায্য আন্দোলন থেকে একচুলও পিছপা হবে না।
শনিবার দিল্লির যন্তরমন্তরের পূর্বঘোষিত মহা-সমাবেশে যোগ দিতে মুম্বাই থেকে আসা 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ও তাঁর দুই সহযোগীকে অবতরণের পরপরই বিমানবন্দর থেকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।
এ ছাড়া দিল্লির কেন্দ্রস্থল ও যন্তরমন্তরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা ছাত্র ও যুব আন্দোলনকারীদের ওপর ব্যাপক সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কেবল এই এক দিনেই প্রায় ৫ হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ লাইনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের এই নজিরবিহীন কড়াকড়ি ও গণ-গ্রেপ্তারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তীব্র সমালোচনা করেন রাহুল গান্ধী।
ভিডিও বার্তায় রাহুল গান্ধী বলেন, আমি নরেন্দ্র মোদী এবং আরএসএসের বিরুদ্ধে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। মানুষ যেমন নিজের হাতের পেছনের অংশ খুব ভালো করে চেনে, আমি ঠিক সেভাবেই তাদের খুব ভালো করে চিনি। এই মানুষগুলোর সবচেয়ে বড় চরিত্র হলো তারা চরম কাপুরুষ।
শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করে তিনি আরও বলেন, নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, মোহন ভাগবত, জ্ঞানেশ কুমার এবং অজিত দোভাল- এই গল্পের খলনায়কেরা ধীরে ধীরে বুঝতে পারছে যে তাদের ক্ষমতার পরিধি দিন দিন কমে আসছে। আর আমরাই সেই পরিধি ছোট করে আনছি।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে একপ্রকার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে রাহুল গান্ধী ভিডিওতে জোর দিয়ে বলেন, মি. মোদী, আপনার যা খুশি তাই করুন। ১০ হাজার, ২০ হাজার কিংবা ৫০ হাজার পুলিশ সদস্য ডাকুন, যত খুশি ডাকুন! সমস্ত নেতা ও তরুণ আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার করুন, আমাদের সবাইকে কারাগারে ভরুন। আমরা আপনাকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরছি এবং আমরা কোনোভাবেই পিছিয়ে যাব না, আমার এই কথাটি টুকে রাখুন। আমাদের লড়াইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সব তথ্য আমরা ইতিমধ্যে পেয়ে গেছি।
তরুণ সমাজের ভূমিকার প্রশংসা করে বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, আমরা ভারতের সংবিধান রক্ষা করব, ভারতীয়দের বাক স্বাধীনতা রক্ষা করব এবং আমরা নিশ্চিত করব, গত ১৫-১৬ বছর ধরে ভারতের ওপর যে জুলুম হয়েছে, তা যেন আর কখনোই ঘটতে না পারে। ভারতের তরুণ সমাজ, আমি তোমাদের জন্য সত্যি গর্বিত। আন্দোলন চালিয়ে যাও, আমরা সব শক্তি নিয়ে তোমাদের পাশে দাঁড়িয়ে আছি। যে সরকার ও তার লোকেরা সংবিধানের ওপর বারবার আঘাত করেছে, তারা এবার পরাজিত হবেই।