ভারতের নির্বাাচন প্রধান কথা সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ ও ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বহুল আলোচিত ‘যন্তর মন্তর ২.০’ বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে দিল্লি পুলিশ।
তবে পুলিশের তরফ থেকে কোনো ধরণের অনুমতি না দেওয়া হলেও নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে আন্দোলনকারীরা। দিল্লি এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলো থেকে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষের এই বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আশঙ্কায় সেন্ট্রাল দিল্লিকে নিরাপত্তার দুর্গে পরিণত করা হয়েছে।

দিল্লি পুলিশ সূত্রের খবর, গত ৭ অক্টোবর সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল, যা ইভেন্টের মাত্র তিন দিন আগে। অথচ নিয়ম অনুযায়ী এমন বড় কর্মসূচির জন্য অন্তত ১৫ দিন আগে আবেদন করা বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
দিল্লির জয়েন্ট কমিশনার অব পুলিশ (নয়াদিল্লি) নুপুর প্রসাদ জানান, গতবার সিজেপিকে বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হলে তারা লিখিত প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও আইনি নির্দেশনা মানেনি। তাই এবার ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারার অধীনে সব ধরণের জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পুলিশের এই নিষেধাজ্ঞার কড়া জবাবে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, যন্তর মন্তর হলো প্রতিবাদের জন্য নির্ধারিত স্থান, সেখানে নিজেদের দাবি জানাতে পুলিশের কোনো অনুমতির তোয়াক্কা আমরা করি না।
বিরোধী দলগুলোও এই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিক্ষোভকারীদের রাজপথে আটকানো ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে:

আধা-সামরিক বাহিনীর নজিরবিহীন উপস্থিতি: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৮ থেকে ১২ অক্টোবরের জন্য কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর প্রায় ২৩ হাজার সদস্য মোতায়েন করেছে। জম্মু ও কাশ্মীর, পশ্চিমবঙ্গ এবং ছত্তিশগড় থেকে সিআরপিএফ সদস্যদের দ্রুততার সাথে দিল্লিতে আনা হয়েছে।
বিপুল পরিমাণ নারী সেনা: আন্দোলনকারী নারীদের সামাল দিতে অন্তত ৫০০ জন অতিরিক্ত নারী প্যারা-মিলিটারি সেনাকে মাঠে নামানো হয়েছে। সব মিলিয়ে সিএপিএফ সদস্যের সংখ্যা প্রায় ২৬ হাজারে পৌঁছেছে, যা ২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লির দাঙ্গার পর সর্বোচ্চ।

হোটেল ও গেস্ট হাউসে বিধিনিষেধ: সেন্ট্রাল দিল্লির সব হোটেল, গেস্ট হাউস ও পেয়িং গেস্ট মালিকদের নতুন কোনো অতিথি বা আন্দোলনকারীকে রুম বুকিং দেওয়া থেকে বিরত থাকতে এবং প্রয়োজনে বুকিং বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যানবাহন ও মদের দোকান বন্ধ: পুরো রাজধানী জুড়ে খুচরা মদের দোকান বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সাথে উবার ও ওলার মতো ক্যাব সার্ভিসগুলোকে লুটিয়েন্স দিল্লির দিকে যাত্রী পরিবহনে বিশেষ কড়াকড়ি মেনে চলতে বলা হয়েছে। শুক্রবার রাত ৯টা থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান পথগুলোও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর রয়েছে।
সমগ্র সেন্ট্রাল দিল্লি জুড়ে প্রদেয় ১৪৪ ধারা বা ১৬৩ ধারার কড়া নির্দেশনার মধ্য দিয়েও হাজার হাজার মানুষ দিল্লি অভিমুখে রওনা হতে থাকায় যে কোনো সময় বড় ধরণের সংঘর্ষ ও উত্তেজনার আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
