বেআইনি আটক বন্ধ ও ব্যারিকেড সরাতে সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশ

  • দিল্লির বিক্ষোভ নিয়ে সুপ্রিমকোর্টের কড়া নির্দেশ
  • শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বেআইনি আটক করা যাবে না
  • মেট্রো বন্ধ নয়, সব ব্যারিকেড সরানোর নির্দেশ
  • ইন্টারনেট পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ
  • সাধারণ মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ

দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজিপি) এবং বিভিন্ন বিরোধী দলের এই প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীতে তৈরি হওয়া বিধিনিষেধের প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আইনবহির্ভূতভাবে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বেআইনিভাবে আটক করা যাবে না। একই সঙ্গে দিল্লির বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যারিকেড তুলে নেয়া এবং মেট্রো ও ইন্টারনেট পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার কড়া নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

ভোটার তালিকার 'বিশেষ নিবিড় সংশোধন' (এসআইআর)-এ অনিয়মের অভিযোগ তুলে সিজিপি ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছে। তবে, দিল্লি পুলিশ নিরাপত্তার অজুহাতে এই বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। এর জের ধরে জন্তর মন্তরসহ একাধিক এলাকা সিল করে দেওয়া হয় এবং অন্তত ১,২০০ জনকে আটক করা হয়। আটক হওয়া বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে রয়েছেন যোগেন্দ্র যাদব, প্রশান্ত ভূষণ, মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী এবং দিল্লির বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনীতিক।

শনিবার দিল্লির এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর রোববার এক বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে শুনানির আয়োজন করেন সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহানার সমন্বয়ে গঠিত এই বেঞ্চ শুনানি চলাকালীন কেন্দ্র সরকার, দিল্লি পুলিশ ও দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশনকে (ডিএমআরসি) নোটিশ পাঠায়। শীর্ষ আদালত জানায়, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারার প্রয়োগ সুপ্রিমকোর্ট এলাকা থেকেও অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে, যাতে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের চলাচলে কোনো বাধা তৈরি না হয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নাগরিকদের প্রতিবাদ করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে, তবে তা পুলিশ আইনের আওতায় থেকে এবং শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে শীর্ষ আদালত পুলিশকেও মনে করিয়ে দিয়েছে, প্রতিবাদের নামে সাধারণ মানুষের যাতায়াত পুরোপুরি থমকে দেওয়া যাবে না। অতিরিক্ত পুলিশি ক্ষমতা প্রয়োগ এবং বেআইনি আটকের যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে আগামী মঙ্গলবার কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে দিল্লিতে হাজার হাজার পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন থাকলেও, সুপ্রিম কোর্টের এই আদেশের পর রাজধানীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, দেশের সংবিধানের ১৯(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনস্বার্থ রক্ষা করে নাগরিকদের স্বাধীনভাবে চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে-ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এনডিটিভি