ইন্ডিয়া জোটের ভূমিকা নিয়ে শীর্ষ আদালতের কড়া হুঁশিয়ারি

ভারতের রাজনীতি আর বিচারবিভাগের রাজকীয় সীমানা, দুইয়ের সংঘাত এখন তুঙ্গে! দেশের নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে মিছিল এবং আদালত চত্বরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও তাঁর সঙ্গীদের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত কড়া সুর বজায় রেখে প্রধান বিচারপতি সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, কাউকে বিচারবিভাগকে ভয় দেখানোর কিংবা চাপ সৃষ্টি করার সুযোগ দেওয়া হবে না।

ঘটনার নাটকীয় সূত্রপাত হয়েছিল গত সোমবার, ১২ অক্টোবর। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ বিষয়াবলী বা এসআইআর প্রক্রিয়া এবং ইসির কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে সুর চড়িয়ে সেন্ট্রাল দিল্লির বারখাম্বা রোড থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত এক বিরাট পদযাত্রার নেতৃত্ব দেন রাহুল গান্ধী।

সাথে ছিলেন 'ইন্ডিয়া' জোটের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। প্রধান বিচারপতির সাথে দেখা করার একটি আবেদন আগে থেকেই ঝুলছিল, যা প্রধান বিচারপতি আগেই নাকচ করে দিয়েছিলেন। প্রশাসনিক কাজে বিচারবিভাগ হস্তক্ষেপ করে না জানিয়ে তিনি নেতাদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন, যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তবে আইনি পথেই আসতে হবে। কিন্তু নেতারা সেই আদেশের পর সরাসরি শীর্ষ আদালতের আঙিনায় বিশাল রাজনৈতিক জমায়েত ও বিক্ষোভ শুরু করে দেন।

বৃহস্পতিবার আদালতে বিষয়টি উঠতেই কেন্দ্র সরকারের আইনজীবী সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা ও আইনজীবী গৌরব ভাটিয়া কড়া প্রতিবাদ জানান। আদালতে রাজনৈতিক মিছিল নিয়ে এসে বিচারবিভাগের ওপর চাপ সৃষ্টির এই চেষ্টাকে অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যা দেন গৌরব ভাটিয়া।

আইনজীবীদের এই মন্তব্যের পরই বেশ ঝাঁজালো সুরে মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তিনি স্পষ্ট জানান, বিচারবিভাগকে কেউ ভয় দেখাতে পারবে না। তবে বিরোধী নেতাদের এই চাপ সৃষ্টির চেষ্টাকে নিতান্তই দুর্বল ও অর্থহীন উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি আরও যোগ করেন, আমরা তো আর কোনো হাতির দাঁতের প্রাসাদে বসে নেই, বাইরে কী হচ্ছে সব খবরই আমরা রাখি। আদালত চত্বরের পুরো ঘটনার সত্যানুসন্ধানে সোমবারের সব সিসিটিভি ফুটেজ সুরক্ষিত রাখারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

অবশ্য রাহুলের করা মূল আবেদনের শুনানি আটকে থাকেনি। মল্লিকার্জুন খাড়গে, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, সুপ্রিয়া সুলে ও সুগত রায়ের মতো প্রধান ১০ বিরোধী নেতার যৌথ সই করা পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য দুই কমিশনারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ জারি করেছে। তবে নোটিশ জারি করা মানেই বিরোধী নেতাদের আদালত চত্বরে ঘটিয়ে যাওয়া এমন অবিবেচকের মতো আচরণকে ছাড় দেওয়া নয় বলে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

পরবর্তী শুনানির দিন এই নেতাদের আচরণের বিষয়টি আলাদাভাবে খতিয়ে দেখবে আদালত। এমনকি সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বেআইনিভাবে মার্চ করার অভিযোগে রাহুল গান্ধী ও অখিলেশ যাদবদের বিরুদ্ধে ওঠা আলাদা এক আবেদনেও তাঁদের কাছে জবাব তলব করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আঙিনাকে রাজনীতির ময়দানে পরিণত করার চেষ্টা আর যাই হোক, দেশের সর্বোচ্চ আদালত যে হালকাভাবে নিচ্ছে না, আজকের এই কড়া বার্তায় তা একপ্রকার পরিষ্কার!