পেশোয়ারে দোতলা স্কুলের ছাদ ধসে শিশুসহ নিহত ৩০

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের কাছ থেকে নতুন দিনের পাঠ নিচ্ছিল ছোট্ট শিশুরা। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই সেই আনন্দমুখর পরিবেশ পরিণত হলো বিভীষিকাময় ধ্বংসস্তূপে। পাকিস্তান উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেশোয়ারের দির কলোনিতে অবস্থিত 'আল-খায়ের স্কুল সিস্টেম'-এর একটি জীর্ণ ভবনের ছাদ ধসে পড়ে ঘটে গেছে এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা।

মর্মান্তিক এই বিপর্যয়ে ২৮টি নিষ্পাপ শিশু ও ২ জন শিক্ষিকসহ প্রাণ হারিয়েছেন ৩০ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে চাপা পড়ে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।

Pakistan school roof 01
বৃহস্পতিবার ক্লাস চলার সময় বেসরকারিভাবে পরিচালিত এই স্কুলটিতে আচমকাই ওপরের তলার ছাদটি ধসে নিচে থাকা তিনটি শ্রেণিকক্ষের ওপর পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো দোতলা ভবনটি দুমড়ে-মুচড়ে স্তূপে পরিণত হয়। দুর্ঘটনার সময় ওই কক্ষগুলোতে অন্তত ১১০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।

ঘটনার পরপরই ধসে পড়া কংক্রিটের নিচ থেকে রক্তাপ্লুত শিশুদের বের করে আনতে আর্তনাদে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীরা।

Pakistan school roof 02
খবর পেয়ে জরুরি দল, অ্যাম্বুলেন্স ও দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। শহরের সরু গলি হওয়ায় প্রাথমিক অবস্থায় দুর্ঘটনাস্থলে গাড়ি পৌঁছাতে এবং ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে উদ্ধারকাজ চালাতে তীব্র বেগ পেতে হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয় পাকিস্তান সেনাবাহিনী। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে শিশু ও শিক্ষকদের উদ্ধারে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দলগুলো।

দুর্ঘটনার পরপরই গুরুতর আহত অবস্থায় অন্তত ৪০ জন শিশু ও শিক্ষককে শহরের লেডি রিডিং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্য একটি দল ৩৩ জন আহত শিশু ও এক শিশুর মরদেহ নাসিরুল্লাহ বাবর মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যায়। লেডি রিডিং হাসপাতালের মুখপাত্র মোহাম্মদ আসিম জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পথেই ১৭টি শিশু মারা যায়। হতাহত হওয়া প্রায় প্রতিটি শিশুর বয়সই ১৩ বছর বা তার চেয়ে কম। বেশ কয়েকজন শিশুর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় জরুরি চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

Pakistan school roof 03
পেশোয়ার ক্যাপিটাল সিটি পুলিশ অফিসার ড. মিয়া সাইদ জানান, স্কুল ভবনটি অত্যন্ত দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামোর ওপর তৈরি করা হয়েছিল। দুর্বল ভিত্তির ওপর অতিরিক্ত নির্মাণের ওজন সহ্য করতে না পেরেই এই ছাদ ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ ইতিমধ্যে স্কুলটির মালিককে হেফাজতে নিয়েছে এবং এই অবহেলার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং খাইবার পাখতুনখওয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সুনিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একটি জীর্ণ ভবনের অবহেলায় এতগুলো তাজা প্রাণ অকালে ঝরে পড়ায় পুরো পেশোয়ার শহরে এখন মাতমের ছায়া।

তথ্যসূত্র: পাকিস্তান অবজারভার ও রয়টার্স