ভারত বাংলাদেশ নয়, ভারত ফ্রান্সও ফ্রান্স নয়: শশী থারুর

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ কিংবা ফ্রান্সের তুলনা টেনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর করা ‘শাসন পরিবর্তন’ মন্তব্য নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই বিতর্কের জবাবে কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সংসদ সদস্য শশী থারুর বলেছেন, ভারত কোনোভাবেই বাংলাদেশ বা ফ্রান্স নয়।

সম্প্রতি ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের কড়া সমালোচনা করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করেন। সেখানে কংগ্রেসপন্থী বা বিরোধীদের পাশাপাশি ২৯ বছর বয়সী জেএনইউর শিক্ষার্থী নেত্রী নেহা বোরা এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণসহ বিভিন্ন ব্যক্তির বক্তব্য তুলে ধরা হয়, যেখানে তারা কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে শাসন পরিবর্তনের কথা বলেছিলেন। এর প্রতিক্রিয়ায় রিজিজু লেখেন, এই মানুষগুলোর দিকে তাকান, যারা ক্ষমতা বা শাসন পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। ভালো করে শুনে রাখুন: ভারত কিন্তু বাংলাদেশ নয়। ভারতের যুবসমাজ কোনো বোকা নয়, তারা দেশ গড়বে, ধ্বংস করবে না। রিজিজু আরও দাবি করেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম খেলাধুলা, প্রযুক্তি ও স্টার্টআপে বিশ্বজয় করে সংস্কৃতির আইকন হয়ে উঠছে।

রিজিজুর এই মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিজ্ঞ কূটনীতিক ও কংগ্রেস নেতা শশী থারুর। তিনি বলেন, ভারত যেমন বাংলাদেশ নয়, তেমনি ভারত ফ্রান্সও নয়। আমি এই ধরনের সাদৃশ্য বা তুলনাগুলোকে খুব একটা প্রাসঙ্গিক বলে মনে করি না। ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে যে সহিংসতা, বাস ও থানা জ্বালিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে, আমরা কখনো সেই সহিংসতার সমর্থন করি না। তিনি স্পষ্ট করে জানান, বিরোধীরা কেবল শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের রাজনীতিতেই বিশ্বাস করে।

‘শাসন পরিবর্তন’ শব্দটির ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে দাবি করে থারুর বলেন, বড় বিষয়গুলো নিয়ে অযথা জলঘোলা করার কোনো মানে হয় না। আমরা মূলত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি। বর্তমানে যা সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় তা হলো, একটি অনিয়মিত, ত্রুটিপূর্ণ ও আংশিক বেআইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই অন্যায় দূর করার জন্যই আমরা দাবি তুলছি। এটি সম্পূর্ণ একটি সাংবিধানিক বিষয়, কোনো সরকার ফেলে দেওয়ার বা ক্ষমতা উল্টে দেওয়ার ষড়যন্ত্র নয়।

উল্লেখ্য, বর্তমানে ভারতে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে কংগ্রেস, বাম দল এবং ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) যৌথভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই ক্ষমতাসীন বিজেপি ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ চরমে উঠেছে। তবে নির্বাচন কমিশন তাদের ওপর আনীত সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি