নারী নির্যাতনের ভুয়া মামলার অভিযোগে তরুণের আত্মহত্যা!

বিয়ের বয়স পার হয়েছে মাত্র আটটি মাস! অথচ এর মধ্যেই দাম্পত্য কলহ, আইনি জটিলতা আর মানসিক যন্ত্রণার এক বিষাক্ত চক্রে পিষ্ট হয়ে জীবনপ্রদীপ নিভে গেলো ভারতের গুজরাটের এক ২৪ বছর বয়সী তরুণের। মহারাষ্ট্রের বিখ্যাত হরিশ্চন্দ্রগড়ের ১৭০০ ফুট উঁচু কোঙ্কনকড়া পাহাড়ের খাদে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বিশ্বরাজসিং ময়ূরসিং গোহিল নামের এই পোস্টাল কর্মী।

তবে মৃত্যুর কোল ঢলে পড়ার ঠিক আগে এক দীর্ঘ ১৩ মিনিটের ভিডিও বার্তায় তিনি যা বলে গেছেন, তা ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং দেশজুড়ে তৈরি করেছে ব্যাপক আলোচনা।

ভিডিওতে কান্নায় ভেঙে না পড়ে বরং ধীরস্থির কণ্ঠে নিজের জীবনের চরম হতাশার কথা ব্যক্ত করেছেন বিশ্বরাজ। তার অভিযোগের আঙুল সোজা গিয়ে পড়েছে তার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দিকে। তিনি জানান, দাম্পত্যের অতি সামান্য মতবিরোধ আর দৈনন্দিন ঝগড়াকে বড় করে বানিয়ে তার এবং তার পুরো পরিবারের বিরুদ্ধে 'গৃহবধূ নির্যাতন'-এর (৪৯৮-এ ধারায়) মিথ্যা মামলা ঠুকে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি তার ১৬ বছর বয়সী ছোট ভাইকেও বাদ দেওয়া হয়নি সেই মামলা থেকে!

ভিডিও বার্তায় বিশ্বরাজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আজ আমি আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছি কারণ জীবনে যখন কোনো আশা অবশিষ্ট থাকে না, তখন আত্মাটা ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। বিয়ে এক পবিত্র সম্পর্ক হলেও বর্তমান আধুনিক যুগে যদি দুটি মানুষের চিন্তাভাবনা না মেলে, তবে সহজে ডিভোর্স হতে পারে। কিন্তু সাধারণ বচসাকে ‘রীরিক নির্যাতন’ আখ্যা দিয়ে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোটা কতটা যুক্তিযুক্ত? তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনো রকম প্রমাণ বা মেডিকেল রিপোর্ট ছাড়াই কীভাবে পুলিশ এসব মামলা নথিভুক্ত করে? পুরো আইনটাই কি পুরুষের বিরুদ্ধে?

স্ত্রী ও তার পরিবারকে অভিযুক্ত করে তিনি আরও দাবি করেন, শ্বশুরবাড়ির লোকেরা জোর করে তার স্ত্রীকে নিয়ে গেছে এবং উল্টো অলঙ্কার চুরির মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে। এই মানসিক, সামাজিক ও আর্থিক নিপীড়ন তাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে বলে জানান তিনি। মৃত্যুর আগে ভাবনাগড়ের স্থানীয় প্রশাসন ও দেশবাসীর কাছে আইনের সংস্কারের জোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ৪৯৮-এ ধারাকে অস্ত্র বানিয়ে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে মিথ্যে মামলা করা হচ্ছে, যা আজকের তরুণ প্রজন্মকে বিয়ের নাম থেকেই আতঙ্কিত করে তুলছে। আমার এই আত্মত্যাগের পর অন্তত যেন পুরুষরা সুবিচার পায়।

ঘটনার পর পুলিশ একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে এবং পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে। তবে পাহাড়ের উঁচু চূড়া থেকে বিশ্বরাজের ওই করুণ ঝাঁপ দেশের একপেশে আইন ও পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার জটিল প্রশ্নটিকে ফের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিল।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স