'রোহিঙ্গা সমস্যাকে কিছু সংস্থা ব্যবসা হিসেবে নিয়েছে'

রোহিঙ্গা সমস্যাকে কিছু কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা ব্যবসা হিসেবে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রিফিউজি পালা কারো কারো জন্য ব্যবসা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসল কথা হলো, রিফিউজি না থাকলে তাদের চাকরি থাকবে না। 

করোনা মহামারি শুরুর পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে এসে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার কাছে একটা জিনিস মনে হয়, রিফিউজি থাকলে কিছু লোকের মনে হয় লাভই হয়। অনেক প্রস্তাব আসে রোহিঙ্গাদের জন্য, এখানে অনেক কিছু করে দিতে চায়। আমি সোজা বলে দিই, যান মিয়ানমারে, ওখানে ঘর করেন, স্কুল করেন, এখানে করা লাগবে না। আমার কাছে যেটা মনে হয়, তাদের কাছে সব কিছুই যেন একটা ব্যবসা। 

সোমবার (৪ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় তার সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র সফরের অভিজ্ঞতা জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সাধারণত প্রতিটি বিদেশ সফর থেকে ফিরে তিনি এ ধরনের সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে থাকেন। 

সংবাদ সম্মেলনে পাঠ করা লিখিত বক্তব্যে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের জাতিসংঘের অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে রোহিঙ্গা সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা ও অব্যাহত সহযোগিতা আশা করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কোন উদ্যোগে সহযোগিতা করতে বাংলাদেশ সদা প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি। 

আরও পড়ুন: মহামারি থেকে পুনরুদ্ধারই প্রাধান্য পেয়েছে জাতিসংঘে

মিয়ানমারকে অবশ্যই তার নাগরিকদের প্রত্যাবর্তনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে স্মরণ করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকাণ্ডে মনে হয়, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে তাদের নিজ ভূমিতে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে তাদের খুব বেশি আগ্রহ নেই। অনেক সংস্থা আছে, যারা রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধানে বরাবারই ভালো সাড়া দিয়ে যাচ্ছে। আবার কিছু সংস্থা প্রত্যাবাসন প্রশ্নে সেই আগ্রহ দেখায় না। 

বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার ফলে কক্সবাজারের পরিবেশ ও প্রতিবেশগত যেসব সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে, সে বিষয়টি জাতিসংঘে তুলে ধরার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে নানা ধরনের অসঙ্গতি চলছে। নারী পাচার, শিশু পাচার, সবচেয়ে বড় হলো ড্রাগ। এই ড্রাগ পাচারের সাথে জড়িয়ে পড়ছে রোহিঙ্গারা। যেটা আমাদের জন্য সবচেয়ে আশঙ্কাজনক। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বলেছি, এটা সেখানে হচ্ছে, আরও হবে, যদি প্রত্যাবাসন না হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। 

গণভবনে দেশের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এই সংবাদ সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে যুক্ত হন বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। 


একাত্তর/আরএইচ