দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে পরিবহন ধর্মঘট। বন্ধ রয়েছ বাস, মিনিবাস, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষ। পরিবহন মালিকরা বলছেন, হঠাৎ জ্বালানি তেলের দাম লিটার প্রতি ১৫ টাকা বাড়লেও ভাড়া সমন্বয় করা হয়নি। তাই ভাড়া বাড়ানো না হলে যান চলবে না।
রাজধানীর প্রতিটি বাস স্টপেজে দেখা গেছে গাড়ির জন্য অপেক্ষমায় থাকা যাত্রীদের ভিড়। তবে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার পরীক্ষা দিতে আসা পরীক্ষার্থীরা।
এদিকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে যাত্রী সংখ্যাও। রাজধানীর সড়কগুলোর অধিকাংশই ছিলো মোটরসাইকেল, রিকশা ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার দখলে।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে আগামীকাল রোববার বৈঠকে বসছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। ওই বৈঠকে ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা না আসা পর্যন্ত পরিবহণ খাতের এ অচলাবস্থার নিরসন হবে না বলে জানিয়েছেন পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা। যদিও সরকারের তরফ থেকে শুক্রবার পরিবহণ ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। ওই আহ্বানে সাড়া না দিয়ে ধর্মঘট অব্যাহত রেখেছেন পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা।
বিআরটিসির চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম বলেন, সারা দেশে বিআরটিসি এক হাজার ১০০ বা ও ৫০০ ট্রাক চলাচল করেছে। বর্তমান ভাড়ায় এসব বাস যাত্রী বহন করেছে।
সরকার যখন বাসের ভাড়া বাড়াবে, তখন বিআরটিসির বাসের ভাড়া বাড়বে। সরকার ভাড়া না বাড়ালে বর্তমান ভাড়ায় যাত্রী বহন করা হবে।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শত শত মানুষ দূরপাল্লার বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য বাস টার্মিনালে এসেছেন। লাগেজ-ব্যাগ হাতে নিয়ে টার্মিনালে আসার পর জানলেন বাস চলাচল বন্ধ। সারি সারি করে পার্কিং করা হয়েছে সব বাস ও বন্ধ রয়েছে টিকিট কাউন্টারও।
রংপুর থেকে একাত্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, ডিজেল ও কেরোসিন তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিভাগীয় নগরীসহ পুরো জেলায় বাস, ট্রাক, ট্যাংক লরি ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে আজ শনিবার সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ ছিলো। বিশেষ করে ঢাকাগামী ও আন্তঃজেলার বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী অর্ধশতাধিক রুটে বাস চলাচল করেনি।
আগাম টিকেট নিয়ে যারা নগরীর কামার পাড়া ঢাকা কোচ স্ট্যান্ডে এসেছেন তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। চাকরিজীবী শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের দুর্ভোগের অন্ত ছিলোনা। একইভাবে নগরীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ ছিলো।
যাত্রীদের অভিযোগ, ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়বে নিম্ন আর মধ্যবিত্তদের ওপর। তারা জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনঃ বিবেচনা করার দাবি জানিয়েছেন।
ময়মনসিংহ থেকে একাত্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, পরিবহন ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে ময়মনসিংহের মাসকান্দা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ অন্য টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার কোনো যানবাহন ছেড়ে যায়নি, যাত্রীদের ভোগান্তির সীমা ছিল না। প্রাইভেটকারসহ হালকা যানবাহনের চেপে কিংবা ভেঙ্গে ভেঙ্গে অনেকে গন্তব্যে গেছেন কয়েকগুণ বেশি ভাড়া গুনে। সমস্যা সমাধানের কোনো উদ্যোগ না থাকায় ক্ষুব্ধ ও হতাশ পরিবহন শ্রমিকসহ যাত্রীরা।
কুমিল্লা থেকে একাত্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বন্ধ রয়েছে গণপরিবহনসহ পণ্য পরিবহন। শুধু দেখা মেলে গুটি কয়েক কাভার্ডভ্যান। তেলের দামের সাথে বাস ভাড়া সমন্বয়ের দাবিতে কুমিল্লার ১৬টি রুটে ২৬ পরিবহনের বাস চলাচল করছে না। কুমিল্লা নগরের তিনটি বাসস্ট্যান্ড থেকে ছেড়ে যায়নি কোনো বাস। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। তবে কুমিল্লা পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড থেকে আন্তঃজেলা ফেনী, চাদঁপুরগামী হাতে গোনা কয়েকটি বাস চলাচল করতে দেখা গেছে। যাত্রীদের ভাড়া গুনতে হয়েছে দ্বিগুণ-তিনগুণ। যাত্রীরা কুমিল্লা থেকে ঢাকা যাচ্ছেন মাইক্রোবাসে করে। জনপ্রতি ভাড়া গুনছেন আটশ’ থেকে বারোশ’ টাকা।
খুলনা থেকে একাত্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, এমনিতেই আগে থেকেই খুলনা রেলের সাতটি গন্তব্যে যাত্রীদের চাপ ছিলো। তার ওপর পরিবহন পরিবহন ধর্মঘটের কারণে খুলনায় বাড়তি চাপ পড়েছে রেলের ওপর। বেশির ভাগ যাত্রী বাস না পেয়ে রেলে সওয়ার হয়েছেন। রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা অতিরিক্ত যাত্রিদের সেবা দিতে সর্ব্বোচ চেষ্টা করছেন।
রাজশাহী থেকে একাত্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, দ্বিতীয় দিনের মতো রাজশাহীতে চলছে পরিবহন ধমঘট। হটাৎ বাস বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন দুপাল্লার যাত্রীরা। হালকা যানবাহনে আন্তঃরুটে যাত্রীরা চলাচল করলেও দুপাল্লার যাত্রীরা পড়েছেন বেকায়দায়।
ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে গতকাল শুক্রবার (৫ নভেম্বর) সকাল ছয়টা থেকে কর্মবিরতি পালন করছে রাজশাহীর পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। ফলে ঢাকা কোচসহ দুরপাল্লা ও আন্তঃজেলার সকল রুটে বাসসহ সকল পরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
একাত্তর/এসি