করোনা মহামারীর মোকাবেলা করে দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে সোয়া লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা দিয়েছে সরকার। সেখানে কিছু চুরি-চামারি হলেও প্রণোদনা কাজে লেগেছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
সোমবার (২২ নভেম্বর), এলডিসি উত্তরণ নিয়ে জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সংলাপের আয়োজন করে সেন্টার অব গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, চুরি কিছু হচ্ছে। কিন্তু সেটি চিল্লাচিল্লি করে থামানো যাবে না। এর জন্য আইন আছে, আইনের মাধ্যমে ধরতে হবে। প্রনোদনার টাকা কিছু চুরি হলেও দেশের সব শ্রেণির মানুষের কঠোর পরিশ্রমে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয় বাড়ছে।
তিনি জানান, বর্তমানে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় আড়াই হাজার ডলারের বেশি। ২০৩০ সালের মধ্যে এই আয় দাঁড়াবে চার হাজার ডলারে। দেশের কোনো মানুষই বর্তমানে আর না খেয়ে থাকে না। স্বল্পোন্নত দেশ হয়েও করোনার মধ্যে অর্থনীতি সচল রেখেছে।
মন্ত্রী বলেন, কিছু জায়গায় মিস ইউজ যে হচ্ছে না তা কিন্তু নয়। কেন্দ্র থেকে ১০০ টাকা বরাদ্দ হলে তা ঠিকাদারের মাধ্যমে সাব-ঠিকাদারের হাতে যায়। সাব-ঠিকাদার আবার তার সাব-ঠিকাদারের হাতে দেয়। এভাবে নানা হাত বদলের মাধ্যমে ১০০ টাকা বরাদ্দ দিলে গ্রামে ১০ টাকা পৌঁছায়। তবে সরকার এ বলয় ভেঙে ফেলতে নানাভাবে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি নেতা ও সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, মাথাপিছু আয় বাড়লেও লাভ নেই, যদি আয়ের সমবণ্টন না হয়। দেশে ধনী-গরিব বৈষম্য বাড়ছে। মেধাবী তরুণরা দেশে থাকতে চায় না।
আরও পড়ুন: দলীয় কার্যালয়ে অবরুদ্ধ খায়রুল কবীর খোকন
ড. আব্দুল মঈন খানকে উদ্দেশ্য করে এম এ মান্নান বলেন, ‘হেলিকপ্টারে চড়ে গ্রামের বাড়িতে যান। দেখতে পাবেন গ্রামে খড় ও ছনের বাড়ি নেই’।
দেশের উন্নয়ন তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সরকার স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন করেছে বলেই আয়ু বেড়ে ৭৬ হয়েছে। মাথাপিছু আয়ে ভারত ও পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছে। প্রকৃত হিসাব করলে মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যাবে। আমি বলতে পারি, পেছনে ফেরার সময় নেই। ২০৩০ সালে মাথাপিছু আয় ৪ হাজার মার্কিন ডলার ছাড়াবে।
সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের চেয়ারম্যান ড. মানজুর আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংলাপে আরো অংশ নেন বাংলাদেশে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম।
মার্সি টেম্বন বলেন, ‘২০০৭ সালে প্রথম যখন বাংলাদেশে এসেছিলাম, তখন এত উন্নত ছিল না। অবকাঠামো অনেক উন্নত হয়েছে। গুলশান-বনানীর ছবি আমার সন্তানদের পাঠিয়েছিলাম। তারা ছবি দেখে নিউইয়র্ক ভেবেছিল’।
তিনি বলেন, গুলশান-বনানীতে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। তবে এই উন্নয়ন রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনায় দেখতে পাওয়া যায় না। গুলশান-বনানীর মতো দেশের অন্যান্য স্থানে অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন টেম্বন।
এছাড়া, সংলাপে বক্তারা এলডিসি থেকে মসৃণ এবং টেকসই উত্তরণের জন্য সরকারকে দেশের সব অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা তৈরির পরামর্শ দেন।
একাত্তর/আরএইচ