‘খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সাথে আমার দীর্ঘদিনের পথ চলা'

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সমাজ উন্নয়নে খ্রিস্টানদের অনেক অবদানের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সমবায় আন্দোলনে তাদের অবদান অসামান্য। তারা অত্যন্ত সফলতার সাথে তাদের বিভিন্ন সমবায়ী প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। 

শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউট (কেআইবি) মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। 

এসময় তিনি বলেন, ‘খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সাথে আমার দীর্ঘদিনের পথ চলা, আমরা একসাথে মিলে মিশে কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষকে একত্রিত করেছেন’। 

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, বাংলাদেশের প্রথম কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’ রোজারিও, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান, এম পিসহ আরও অনেকে। 

অনুষ্ঠানে স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধ করেছে ও ত্যাগ স্বীকার করেছে। খ্রিস্টান সম্প্রদায় ক্ষুদ্র হলেও তাদের অনেক অবদান রয়েছে এবং তারা মুক্তিযুদ্ধে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। কিন্তু তা সম্পর্কে আমাদের বিস্তারিত তেমন জানা নেই, কিন্তু তা জানতে হবে। স্বাধীনতার ৫০ বছর একটি অসামান্য উপলক্ষ্য তাদের এ ইতিহাসকে জানার। আমাদেরকে এ ৫০ বছরের ইতিহাস থেকে আগামী ৫০ বছরের ইতিহাস রচনা করতে হবে। 


কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’ রোজারিও তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে খ্রিস্টান সম্প্রদায় ক্ষুদ্র কিন্তু কোন ক্ষেত্রে তারা নগন্য বা দুর্বল নয়। তারা বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। স্বাধীন বাংলাদেশকে সোনার বাংলা গড়ে তোলার প্রয়াসে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিগত ৫০ বছর ধরে খ্রিস্টান সম্প্রদায় কাজ করে আসছে। বর্তমানে সে কাজ আরো সম্প্রসারিত ও গতিময় করে তুলছে।     

শনিবার বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া এই আয়োজন চলে প্রায় তিন ধন্টা ধরে। অনুষ্ঠানের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছিলো, জীবিত ও প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান। কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে প্রধান অতিথি এবং বিশেষ অতিথিগণ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খ্রিস্টান মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিনিধিত্বকারী ৪০ জনকে বিশেষ মেডেল পরিয়ে দেন। এ সময়ে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখে মারা গেছেন এমন ৩৫ জনকে মরণোত্তর সম্মাননা দেয়া হয়। এছাড়াও, অতিথিদের হাতে তুলে দেয়া হয় বিশেষ স্মারক হিসেবে ক্রেস্ট। 

এছাড়াও, দেশাত্ববোধক গান, নৃত্য, শিশুদের অংশগ্রহণে বিশেষ নাটক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এবং মুক্তিযুদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায় বিষয়ক প্রামান্যচিত্রের সমন্বয়ে চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

 

একাত্তর/ এনএ