গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) বর্তমান এবং সাবেক ছয় কর্মকর্তার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে ‘খুবই দুর্ভাগ্যজনক’ হিসাবে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।
শনিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে তিনি সাংবাদিকদের একথা জানান। তিনি বলেন, আমেরিকার অর্থ বিভাগের প্রতিবেদন ‘তথ্য-ভিত্তিক নয়’। সে সঙ্গে বিষয়টি কোনো ভূ-রাজনীতির প্রতিফল কি না তা ঢাকা পর্যালোচনা করে দেখবে বলেও জানান তিনি।
ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলারকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ‘অসন্তোষ’ জানাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করার কয়েক ঘণ্টা পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এটি (নিষেধাজ্ঞা) অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও জোরালো তথ্য-ভিত্তিক প্রতিক্রিয়া আশা করি’।
এ পরিস্থিতি বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে কি না প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তা মনে করি না’। তবে তিনি দ্রুত যোগ করেন যে ‘এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে। যে কোন অভিযোগই তথ্য ভিত্তিক হওয়া উচিত’।
মোমেন বলেন, র্যাব একটি সুশৃঙ্খল প্রতিষ্ঠান, যা বরং বাংলাদেশের মানুষের মানবাধিকার সুরক্ষিত করে আসছে। তিনি জানান, মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এই নিষেধাজ্ঞার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। জবাবে রাষ্ট্রদূত বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
মোমেন আরো জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবছর ছয় লাখ লোক নিখোঁজ হয়। তা নিয়ে বাংলাদেশ কখনও জানতে চায়নি। তিনি বলেন, কখনও কখনও কোনো দেশ বা সরকার ভালো পারফরমেন্স করলে প্রায়ই আক্রমণের সম্মুখীন হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে যে র্যাব ১০ বছরে ৬০০ মানুষকে হত্যা করেছে। কিন্তু কারা নিহত হয়েছে আমাদের কাছে তার কোনো তথ্য নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত তথ্য-ভিত্তিক উচিত ছিল।