বিশেষ বাহিনী- র্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা দেশের জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকদের উৎসাহিত করবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগেরসাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) আওয়ামী লীগ সম্পাদক মণ্ডলীর বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের আরো বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা আগামী নির্বাচনে কোন প্রভাবফেলবে না। একই সঙ্গে বিজয়ের মাসে আমেরিকার এমন আচরণের পেছনে ষড়যন্ত্র আছে বলেও মনেকরেন তিনি।
বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী এবং মুজিব শতবর্ষের অনুষ্ঠানে দেশব্যাপী প্রধানমন্ত্রীর শপথ বাক্য পাঠ করানোর প্রস্তুতিসহ বেশ কিছু ইস্যুতে, ধানমণ্ডিতে দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠকে বসেন আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্যরা।
সভায় সিদ্ধান্ত হয় ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসকে কেন্দ্র করে টুঙ্গিপাড়ায় আগামী বছরের ১১ ও ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠান এবং ১৩ জানুয়ারি থেকে সপ্তাহব্যাপী লোকজ উৎসবের আয়োজন করবে আওয়ামী লীগ।
পরে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন,বিষয়টি নিয়ে আমি আগের দিনই দলের বক্তব্য দিয়েছি। এ বিষয়নিয়ে আর ঘাঁটাঘাঁটি করতে চাই না।
পরে সাংবাদিকরা জানতে চান,নিষেধাজ্ঞার পেছনে কোন ষড়যন্ত্র আছে কিনা, উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ষড়যন্ত্রেরবিষয় তো অবশ্যই আছে। বিজয়ের মাসে যুক্তরাষ্ট্রের যে বক্তব্য তা দেশের জঙ্গিবাদ, তাদের পৃষ্ঠপোষক এবং সন্ত্রাসীদেরকে উৎসাহিত করছে।
র্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাতকর্মকর্তার ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আগামী নির্বাচনে কোনো প্রভাবফেলবে না। নির্বাচনে প্রভাব ফেলার কোনো কারণ নেই বলেও উল্লেখ করেন সড়ক পরিবহন ওসেতুমন্ত্রী।
তিনি আরো বলেন, মুরাদ হাসান যে কথা বলেছে, তার চেয়ে ঘৃণ্য-জঘন্য কথা বলার পরও আলালকে বিএনপি, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমর্থন করেছে। মির্জা ফখরুলের মধ্যেভদ্রতার লেশমাত্র নেই, আলালকে শাস্তিদেওয়া তো দূরের কথা সমর্থন দিয়েছে।
১৬ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীরপরিচালনায় যে শপথ অনুষ্ঠান হবে তাতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে অংশগ্রহণ করার আহ্বানকরেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘শুধু ঢাকায় নয়, একই সঙ্গে সারাদেশে এই চেতনা ছড়িয়ে দিতে চাই। শুধু আমাদেরনেতাকর্মীরা নয়, মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের, অসাম্প্রদায়িক চেতনার সকল শ্রেণি-পেশার জনগণকেও আমরা এতেঅংশগ্রহণের উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠান—এটি জাতিরঅনুষ্ঠান’।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘১৮ ডিসেম্বর আমরা একটি বিজয় শোভাযাত্রার আয়োজন করেছি। এইশোভাযাত্রা কীভাবে সুসংগঠিত ও সুশৃঙ্খল করা যায় সেই ব্যাপারে আমরা আলোচনা করেছি।শিখা চিরন্তন থেকে বঙ্গবন্ধু ভবন পর্যন্ত এই শোভাযাত্রাটি হবে’।
১১ ও ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুরস্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে টুঙ্গিপাড়ায় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকরা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘১৩ জানুয়ারিথেকে সপ্তাহব্যাপী লোকজ উৎসব হবে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সভাপতিমণ্ডলীরসদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমকে আহ্বায়ক ও ফারুক খানকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে একটি কমিটিকরা হয়েছে’।
সভায় উপস্থিত ছিলেনসভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান, জাহাঙ্গীরকবির নানক, আবদুর রহমান, মাহবুব-উল আলম হানিফ, হাছান মাহমুদ, আ ফ মবাহাউদ্দিন নাছিম, বি এম মোজাম্মেলহক,আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন, আফজাল হোসেন, ওয়াসিকা আয়শা খান, ফরিদুন্নাহারলাইলী,অসীম কুমার উকিল, দেলোয়ার হোসেন, বিপ্লব বড়ুয়া, আবদুস সবুর, সুজিত রায় নন্দী, আমিনুল ইসলাম, সায়েম খান প্রমুখ।