দেখতে দেখতে কেটে গেলো আরও একটি বছর। আর এই কেটে যাওয়া ২০২১'এ মৃত্যুর মিছিল হয়েছে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর। দেশ হারিয়েছে একঝাঁক গুণি মানুষ, যারা কর্মে রেখে গেছেন সুস্মিত পদচিহ্ন। শিল্প, সাহিত্য ও বিনোদন থেকে রাজনীতির সেই সব প্রিয় মুখের কয়েকজনকে স্মরণ করছি আমরা।
বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় খলনায়ক এটিএম শামসুজ্জামান। পুরো নাম আবু তাহের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান। ১৯৬৫ সালে নয়া জিন্দগানীর মধ্য দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রে পদার্পন। অভিনয়ের জন্য আজীবন সম্মাননাসহ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন ছয় বার। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগে ২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সূত্রাপুরের দেবেন্দ্রনাথ দাস লেনে নিজ বাসায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তার মরদেহ জুরাইন কবরস্থানে তার বড় ছেলে কামরুজ্জামান কবীরের পাশে সমাহিত করা হয়।
বাংলাদেশী সাংবাদিক, কলামিস্ট, গবেষক, প্রাবন্ধিক ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ। গবেষণাধর্মী প্রবন্ধের জন্য সুপরিচিত তিনি। ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি অসুস্থ হওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়ার পথে ৭৫ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়।
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মন্ত্রীপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। পুরো নাম হোসেন তৌফিক ইমাম। পূর্ব পাকিস্তানের উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা হয়েও ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন এবং প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এবছর ৪ মার্চ ৮২ বছর বয়সে তিনি পরলোক গমন করেন।
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক মন্ত্রী, রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী মওদুদ আহমেদ। দেশের অন্যতম প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম তিনি। সিওপিডি রোগে আক্রান্ত হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
বাংলাদেশী রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী মিতা হক। একক ভাবে মুক্তি পাওয়া মোট ২৪টি অ্যালবাম আছে তার। ২০১৬ সালে শিল্পকলা এবং ২০২০ সালে একুশে পদক পান তিনি। ১১ এপ্রিল মাত্র ৫৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন এই গুণী শিল্পী।
অধ্যাপক, লোক সংস্কৃতি ও পল্লীসাহিত্য গবেষক এবং বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। 'বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালা' শিরোনামে ৬৪ খণ্ডে ৬৪ জেলার লোকজ সংস্কৃতির সংগ্রহশালা এবং ১১৪ খণ্ডে বাংলাদেশের ফোকলোর সংগ্রহমালা' সম্পাদনা করেন তিনি। একুশে পদক পাওয়া এই ব্যক্তিত্ব ১৪ এপ্রিল, ৮৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
বাংলা চলচ্চিত্রের মিষ্টি মেয়ে সারাহ বেগম কবরী। তার পুরো নাম মিনা পাল। তিনি একাধারে অভিনয়শিল্পী, চলচ্চিত্র পরিচালক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ১৩ দিনের মাথায়, ২০২১ সালের ১৭ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ফকির আলমগীর। গণসঙ্গীত ও দেশীয় পপ সঙ্গীতে তার ব্যাপক অবদান রয়েছে। একুশে পদক পাওয়া এই গুণী ব্যক্তিত্ব ২৩ জুলাই, ৭১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
সাবেক ক্রিকেটার, জাতীয় ক্রিকেট কোচ, সংগঠক, সাংবাদিক ও ক্রিকেট লিখক জালাল আহমেদ চৌধুরী। এ বছর ২১ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।
অভিনেতা, লেখক, নাট্যকার ও শিক্ষক ইনামুল হক। তিনি দীর্ঘকাল বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগের শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১২ সালে 'একুশে পদক' পান তিনি। এবছর ১১ অক্টোবর, ৭৮ বছর বয়সে মারা যান তিনি।
বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান কথাসাহিত্যিক, ঔপন্যাসিক ও ছোট গল্পকার হাসান আজিজুল হক। এবছর ১৫ নভেম্বর মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
জাতীয় অধ্যাপক, লেখক এবং দেশের প্রথম নজরুল গবেষক রফিকুল ইসলাম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রথম নজরুল অধ্যাপক ও নজরুল-গবেষণা কেন্দ্রের প্রথম পরিচালক। এবছরের ৩০ নভেম্বর, ৮৭ বছর বয়সে মারা যান তিনি।
একাত্তর/টিএ