বিদেশে লবিষ্ট নিয়োগ করতে বিএনপি কোন অর্থ বিনিয়োগ করেছে কিনা, করে থাকলে তার উৎস কি বা বিদেশে কোন টাকা পাচার হয়েছে কিনা তা নিয়ে তদন্তে নেমেছে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউ।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের দেয়া একটি চিঠির পরিপেক্ষিতে এরিমধ্যে বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনার কাজ শুরু করে দিয়েছে সংস্থাটি।
দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।
এদিকে, আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের মতে, বৈদেশিক সহায়তা বন্ধের আবদার জানিয়ে বিএনপি ভুলটি করেছে।
২০১৯ সালের ১৭ থেকে ২৪ এপ্রিল। এই এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদের কাছে একের পর এক চিঠি পাঠান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
পরে সংসদের ভেতরে-বাইরে ফখরুলের সই করা চিঠিগুলো প্রকাশ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়। আর মির্জা ফখরুল দাবি করেন চিঠিগুলো ভিত্তিহীন।
তবে বন্ধু দেশের কাছে নির্বাচনে অনিয়মের নালিশ জানানো আর খালেদার উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারকে চাপ দিতে চিঠি দেয়ার কথা স্বীকার করেন ফখরুল।
যদিও এই দাবির পেছনে একটি নথিও প্রকাশ করেনি বিএনপি। তবে, পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের চিঠি নিয়ে কাজ শুরু করেছে দেশের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা।
আর, দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান জানিয়েছেন, বিদ্যমান আইনে দুদককেও এই অনিয়ম অনুসন্ধানের সুযোগ দিয়েছে।
দেশের আইনে লবিষ্ট নিয়োগ সংক্রান্ত কোন বিধি নেই। তবে সরকার চাইলে দেশের স্বার্থে লবিষ্ট নিয়োগ করতে পারে।
কিন্তু একই কাজ যদি কোন রাজনৈতিক দল করে থাকে তবে তাদের অনেক প্রশ্নের জবাব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।
ফখরুলের সই করা চিঠিগুলোতে ভোটের অনিয়ম, গণতন্ত্র রক্ষা, মানবাধিকার লঙ্ঘন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাবানদের তথ্য দেয়া হয়েছে।
বলা হয়েছে, সহায়তা বন্ধ করে সরকারকে এর গুরুত্ব বুঝাতে হবে। এসব বিষয়ে প্রয়োজনে বিএনপিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতে পারে বলছেন ড. ইফতেখার।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের লেখা চিঠিগুলো তাদের উদ্দেশ্যেই লেখা যারা মূলত যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
একাত্তর/এআর