সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার ঘটনার দশম বার্ষিকী আজ। ২০১২ সালের এই দিনে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও তার স্ত্রী এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় খুন হন। এই হত্যার ঘটনার পর রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা করেন।
প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন শেরেবাংলা নগর থানার এক উপ-পরিদর্শক। চারদিন পর চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার তদন্তভার হস্তান্তর করা হয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে। দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে ডিবি রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয়।
পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ই এপ্রিল হত্যা মামলাটির তদন্তভার RAB-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। আদালত থেকে দফায় দফায় সময় বেঁধে দেওয়ার পরও হত্যার রহস্য উদঘাটন করে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি Rab।
মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর নয় বছর ১০ মাস চলে গেছে। অথচ RAB এখনো কোনো প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি আদালতে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ ৮৫ বার পেছাতে হয়েছে।
শুক্রবার র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন জানিয়েছেন, পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করেই সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন দেয়া হবে। বলেন, কোনো নিরপরাধ মানুষ যেনো ফেসে না যায় সেজন্য তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে দেরি হচ্ছে।
এদিকে, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে গণমাধ্যম কর্মীরা।
শুক্রবার সকালে সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা বলেন, সাংবাদিক পেশার দুজন মানুষকে এক দশক আগে হত্যা করা হয়েছে।
তাদের হত্যাকারীদের প্রশাসন এখনও গ্রেপ্তার না করায় ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, দফায় দফায় তদন্ত প্রতিবেদনের সময় বাড়ানো হয়েছে ৮৫ বার। দ্রুত তদন্ত শেষ করে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে দাবি জানানো হয় সমাবেশ থেকে।