আপাতত দুই ডোজ টিকা নেয়া শিক্ষার্থীরাই যাবে শ্রেণিকক্ষে

চলতি মাসের ২২ তারিখে সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হলেও সব শিক্ষার্থীর শ্রেণিকক্ষে যাওয়ার সুযোগ থাকছে না। শুধু মাত্র যাদের দুই ডোজ টিকা নেয়া হয়েছে তারাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারবেন। যারা টিকা নেয়নি তারা অনলাইনে ক্লাস করবে। 

সেই সঙ্গে ১২ বছরে বেশি নিচে শিক্ষার্থীদের আপাতত স্কুলে যেতে হবে না। দুই সপ্তাহ পর তাদের স্কুলে যাবার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। পাশাপাশি ১২ বছরের নিচে শিক্ষার্থীদেরও টিকার আওতায় আনার চিন্তা ভাবনা করছে সরকার। 

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি এসব কথা জানান। কতজন শিক্ষার্থী দুই ডোজ টিকা পেয়েছেন তাও জানান তিনি। সেই সঙ্গে কবে নাগাদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি খুলে দেয়া হতে পারে সেটিরও আভাস দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চালু করা হবে। তবে দুই ডোজ নেয়া শিক্ষার্থীদের ক্লাস সশরীরে হবে। যারা দুই ডোজ টিকা পায়নি তাদের ক্লাস অনলাইনে বা টিভিতে হবে। 

আগের মতো স্বল্প পরিসরেই ক্লাস হবে উল্লেখ করে দীপু মনি বলেন, করোনা সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি কমিটির সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করার পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেই এমন সব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত ১২ থেকে ১৭ বছর পর্যন্ত মাধ্যমিক পর্যায়ের এক কোটি ২৮ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে এক কোটি ২৬ লাখ ৫৭ হাজার শিক্ষার্থী প্রথম ডোজ টিকা পেয়েছে। দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে ৩৪ লাখ ৫০ হাজার শিক্ষার্থী।

তিনি জানান, আগামী ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রথম ডোজ পাওয়া শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় ডোজের আওতায় আনা হবে। কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাসে পাঠদান পরিচালনা করতে হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না।

তিনি বলেন, যেহেতু করোনার কারণে গত এক মাস বন্ধ ছিল তাই যেখানে শেষ সেখান থেকে শুরু করা হবে। বর্তমানে আগের চেয়ে ক্লাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস শেষ করা হবে।

বর্তমানে ১২ বছরের নিচে শিক্ষার্থীদের করোনার টিকার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে, এমন কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও কাজ করছে। তারা অনুমোদন দিলে আমরাও এসব শিশুকে টিকার আওতায় আনার কার্যক্রম শুরু করবো।

এর আগে, বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির বৈঠকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

অতি সংক্রামক ধরন ওমিক্রনের প্রভাবে দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাবার পরিপেক্ষিতে গত ১৩ জানুয়ারি থেকে বড় ধরনের সভা-সমাবেশ, সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ ও কঠোর স্বাস্থ্যবিধি আরোপে ১১ দফা বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। 

এরপর ২১ জানুয়ারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধসহ নতুন করে পাঁচ দফা নির্দেশনা দেয় মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ। তাতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। পরে আরও দুই সপ্তাহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।


একাত্তর/এআর