সাত মার্চের ভাষণ আর মুছে ফেলা যাবে না: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রত্যয়ের সঙ্গে বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক সাতই মার্চ ভাষণ আর কেউ মুছে ফেলতে পারবে না। এই ভাষণ এখনো বাঙালিকে প্রেরণা যোগায়। 

সোমবার ঐতিহাসিক সাত মার্চ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, আজ এটি প্রমাণিত সত্য যে, সত্য কেউ কখনো মুছে ফেলতে পারে না। আর সাত মার্চের ভাষণেই তো জাতির পিতা বলে গেছেন- কেউ দাবাইয়া রাখতে পারবা না। বাঙালিকে কেউ দাবায় রাখতে পারে নাই।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সারা জীবনের রাজনৈতিক সংগ্রামের অভিজ্ঞতা থেকে সাত মার্চের ভাষণ দিয়েছিলেন। জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে ভাষণ শেষ করেছিলেন। কিন্তু এই ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। আর কেউ ভাষণ মুছে ফেলতে পারবে না। 

আরও পড়ুন: স্বাধীনতাবিরোধীরা এখনো ষড়যন্ত্র করছে: কাদের

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সাত মার্চের ভাষণ বাজানো নিষিদ্ধ ছিল। আমাদের ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মী, আমাদের আওয়ামী লীগের অনেক নেতা কর্মীকে ৭ই মার্চের ভাষণ বাজাতে গিয়ে নির্যাতিত হতে হয়েছে। তাদের গুলি খেয়ে মরতে হয়েছে। 

তাদের ওপর চরম অত্যাচার চলেছে। ২১ বছর বাঙালী জাতি স্বাধীনতার বিকৃত ইতিহাস শুনেছে। আর একুশটা বছর ধরেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, লাখো শহীদের রক্তদান, আমাদের সংগ্রাম- সব কিছু ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে।

সরকার প্রধান বলেন, বঙ্গবন্ধু যখন ভাষণ দিতে যাবেন তখন অনেক রাজনৈতিক দল, অনেক ছাত্রনেতা পরামর্শ দিতে থাকেন যে কি করা উচিত। 

কয়েকটা ছাত্রনেতা তো বলেছিলেন যে আজ সরাসরি তো স্বাধীনতার ঘোষণা দিতেই হবে। না হলে তো মানুষ হতাশ হয়ে যাবে- এমনটাও বলেছিল। 

আমাদের কিছু কিছু বুদ্ধিজীবী অনেকে অনেক পয়েন্ট লিখে লিখে দিয়ে গেছেন। অনেকেই পরামর্শ দিয়ে গেছেন। আমাদের বাসাটা তখন উন্মুক্ত ছিল। সবার জন্য খোলা ছিল।

তিনি বলেন, আমার আব্বাকে আমার মা একটা কথাই বলেছিলেন, সারাটা জীবন তুমি সংগ্রাম করেছ এ দেশের মানুষের জন্য। তুমি জানো এ দেশের মানুষের জন্য কোনটা ভালো। তোমার মনে যেটা আসবে তুমি ঠিক সেটাই বলবা। 

তোমার কারো কথা শোনার প্রয়োজন নাই। আজ আপনারা যে ভাষণটা দেখেন তার (বঙ্গবন্ধুর) কাছে কিন্তু কোনো কাগজ নাই, কিছু নাই। তিনি একাধারে বঞ্চনার ইতিহাস পড়ে যাচ্ছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, একটি মাত্র ভাষণ যা কেউ কোনোদিন বের করতে পারবে না, যে এই ভাষণটা কত ঘণ্টা, কত মিনিট, কত দিন বাজানো হয়েছে। 

এর হিসাব করা একটি কঠিন ব্যাপার। যুগ যুগ ধরে শুনছি এবং বাজানো হচ্ছে। কত কোটি কোটি মানুষ শুনেছে। যতই বাধা দেয়া হয়েছে ততই যেন ভাষণ আরও উদ্ভাসিত হয়েছে।

তিনি বলেন, এখনও এই ভাষণ আমাদের অনুপ্রেরণা দেয়। এ ভাষণের প্রতিটি লাইন একেকটার কবিতার অংশ। 

ভাষণের যে ঐতিহাসিক কথা- এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে এই লাইনটা বাজানো হতো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা ভাষণ শেষ করেছেন ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে। বাঙালীর জয়, বাংলার জয়, বাংলার মানুষের জয়, এই জয় বাংলা স্লোগান। আমার আত্মবিশ্বাস আর কোনোদিন কেউ এই ইতিহাস মুছে ফেলতে পারবে না। একটি ভাষণের মাধ্যমে বাঙালী জাতি উদ্বুদ্ধ হয়েছিল। সশস্ত্র গেরিলা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে এবং স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে।


একাত্তর/এসজে